সর্বশেষ আপডেট :May 27, 2020
Ovinews24

এই সময়েও কোটি ভিউ পার হওয়া গান নিয়ে কনকচাঁপা’র স্মৃতিচারণ

May 15, 2020

অভি মঈনুদ্দীন : যুগে যুগে একটি গানের জনপ্রিয়তার বিচার নিরিখ করা হয়েছে শ্রোতা দর্শকের মুখে মুখে গানটির বারবার ফিরে আসা নিয়ে। কিংবা গ্রাম থেকে শহরের আনাচে কানাচে গানটির প্রতিদিনই শ্রোতা দর্শকের উপভোগ করা নিয়ে। কিন্তু সেই রীতি বা সময়ে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে, বদলে গেছে এখন জনপ্রিয়তার ভাষা। এখন ইউটিউবের ভিউয়ার্স একটি গান জনপ্রিয় হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে বিবেচ্য। সেই হিসেবে ইউটিউবে ভিউয়ার্স বিবেচ্য হবার আগে বাংলাদেশে এমন অনেক গান আছে যা ইউটিউবের ভিউয়ার্স বিবেচনার সুযোগ থাকলে তা আজকের প্রেক্ষাপটে ১৫/২০ কোটি ভিউয়ার্স পার হয়ে যেতো। বাংলাদেশের সিনেমার সুপারস্টার সাকিব খান অভিনীত সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘অনন্ত ভালোবাসা’ সিনেমার ‘এই যে দুনিয়াতে কতো মানুষ আছে’ গানটি বেশ শ্রোতাপ্রিয় একটি গান। এই গানটি অনুপম মুভি সংস’ ইউটিউব চ্যানেলে ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়। সিনেমা মুক্তির ১৯ বছর পর গানটি ইউটিউবে প্রকাশিত হয়। এরইমধ্যে প্রায় দেড় বছরে গানটি ইউটিউবে ১ কোটিরও বেশি ভিউয়ার্স উপভোগ করেছেন। ভালোলাগার বিষয় হলো এই যে এই সময়ে এসেও মাত্র দেড় বছরে অ্যাণ্ড্রু কিশোর কনকাচাঁপার গাওয়া গান কোটির ঘর অতিক্রম করে। তাতে সহজেই অনুমেয় সেই সময়ে ইউটিউব থাকলে কতো কতো কোটির ঘর অতিক্রম করতো এই গান। গানটির দৃশ্যায়নে অভিনয় করেছিলেন সাকিব খান, ইরিন, ডলি জহুর, ইউসুফ খান। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের লেখা ও সুর সঙ্গীতে গানটিতে কন্ঠ দিয়েছিলেন অ্যাণ্ড্রু কিশোর ও কনকচাঁপা। গানটি নিয়ে স্মৃতিচারণ প্রসঙ্গে কনকচাঁপা বলেন,‘ অনন্ত ভালোবাসা ছবিতে অনেক গুলো গান আমি গেয়েছিলাম। গানবহুল ছবি ছিলো এটা। সে সময় আমি বেশীরভাগ সুঅভিনেত্রী শাবনুরের গান গাই। সেখানে শ্রদ্ধেয় সুরকার গীতিকার স্বভাবকবি আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ভাই গানের জন্য ডেকে নিয়ে বললেন, ভাবি এই ছবির গানগুলো একটু ছটফটে সাদামাটা মেয়ের জন্য গাইবেন যে শুধু বনে বাদারে ঘোরে। আমি অনন্ত ভালোবাসা ছবিতে পয়লা গাইলাম এতো সুন্দর পৃথিবী দেখিনি তো আগে। নায়িকার সরলতা মুগ্ধতা আমাকে ছুঁয়ে গেল। আমিই যেন সেই মেয়েটি হয়ে গেলাম! তারপর গাইলাম এ বুকে লিখেছি আমি যে তোমারি নাম, সেটাও সুন্দর গান।তারপর ১/৮/৯৮ তারিখে শ্রুতি স্টুডিওতে গাইলাম এই যে দুনিয়াতে কত মানুষ আছে। অপূর্ব গান। গান হবে বিকেলে বুলবুল ভাই দুপুরে ডাকলেন। স্টুডিওতে দুপুরে খেতে হবে। আমি একটা চিংড়ি ভর্তা আর কাঠালের বীজ দিয়ে মুরগির কষা তরকারি রান্না করে নিয়ে গেলাম। আর স্টুডিওতে সাধন ভাইয়ের রান্না করা মজার মজার তরকারি দিয়ে সবাই খেলো। বুলবুল ভাই দুষ্টামি করে বললেন আজ দেখবো ভাবীর রান্না ভালো হয়েছে নাকি আজকের গান বেশি সুন্দর হয়েছে! আমি ভয় পেয়ে গেলাম!অযথাই। খাবার খেতে খেতেই ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেলো। তার মানেই বসে থাকো একঘন্টা। নামকরা পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান ভাইয়ের ছবি। খুব কম কথা বলেন কিন্তু গান বুঝে নেন ষোল আনা। অন্ধকার থাকতেই উনি এলেন। এসে বললেন গান তো হিট, কারণ যে গানের আগেপিছে এমন কষ্ট থাকে সে গান হিট হয়ই।এগুলো শুনে আরও ভয় লাগে। দায়িত্ব বেড়ে যায়।তারপর বিকেলের চা খেয়ে গান তুলে মাইক্রোফোন এর সামনে আমি আর কিশোর দা দাঁড়ালাম। আমাদের গান তুলতে লাগে পাঁচ মিনিট গাইতে লাগে দশ পনেরো মিনিট। গানের শেষ লাইনের আগে আবার ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেলো। এবার সোহান ভাই চুপ! বুলবুল ভাই রসিকতাও পারতেন। বললেন এইবার তিনছক্কা পড়লো। হাহাহা। তিনছক্কার মানে হলো দুইবার ইলেক্ট্রিসিটি গেছে আর আমার কাঠের লিরিক স্ট্যন্ড থেকে ক্লিপ খুলে গেছিলো। আসলে ওগুলো কোন ব্যাপার না।গানের সুর লেখা গায়কী চিত্রায়ণ সব ভাল হলেই সে গান হিট হয় বা চিরস্থায়ী হয়! আসলে এই স্মৃতি গুলো আমার কাছে মণিমুক্তার মতো দামী। আমার ছবির গানের আটটা খাতা ভর্তি গান তাতে সুরকার গীতিকার সহশিল্পী পরিচালক স্টুডিও সব লেখা একটা চলন্ত ইতিহাস মতো। খুব দুঃখ হয় এখনকার মতো মোবাইল থাকলে আমি স্টিল ছবি ভিডিও সব করার ব্যাবস্থা করতাম! যাক, যা হয়নি হয়নি। গানগুলো তো আছে।তাতেই গানের সংশ্লিষ্ট সবাই বেঁচে থাকবে। স্রষ্টা এ গানের গীতিকার সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ভাই এবং রেকর্ডিস্ট সাঈদ ভাইকে জান্নাতবাসী করুন।’

ছবি : মোহসীন আহমেদ কাওছার

Leave a Reply

এটাও পছন্দ করতে পারেন

প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ, করোনা বিজয়ে তাকে নিয়ে জামাল হোসেনের গান

‘কার তরে নিশি জাগো রাই’গেয়েও প্রশংসিত লুইপা

পৃথ্বিরাজকে উৎসর্গ করে নন্দিতা-নাফিসের ‘সকাতরে ঐ কাঁদিছে সকলে’

সুবীরনন্দী’কে নিয়ে জামাল হোসেনের কথা’য় অপু’র ‘অভিমান’

রবীন্দ্র নিবেদিত প্রাণ তৈরীতে মগ্ন অণিমা রায়

নিজের চ্যানেলে লোপা’র কন্ঠে রুনা লায়লার ‘যখন থামবে কোলাহল’

Copy link
Powered by Social Snap