সর্বশেষ আপডেট :May 24, 2020
Ovinews24

চলচ্চিত্র নির্মাণই চন্দনের স্বপ্ন

March 18, 2020

অভি মঈনুদ্দীন : চন্দন রায় চৌধুরী, খুলনা শহরের প্রখ্যাত ফটোগ্রাফার তুষার রায় চৌধুরীর সন্তান। বাবার ক্যামেরার জাদুতে মুগ্ধ হয়েই একসময় ফটোগ্রাফির নেশা চন্দনের নিজের মধ্যে জেগে উঠে। সেই স্বপ্নকে বুকে লালন করে জীবনের বেড়ে উঠার ধারাবাহিকতায় একসময় অনার্স সম্পন্ন করেন খুলনা আর্ট কলেজ থেকে চারুকলা বিষয়ে। এরপর ঢাকার স্টামফোর্ড ইউনভিার্সিটি থেকে পরিচালনায় মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। মিডিয়াতে চন্দনের শুভারম্ভ হয় ফেরদৌস হাসান রানা ওসাজ্জাদ সুমন পরিচালিত ‘মহানগর’ ধারাবাহিকের আর্ট ডিরেকসনের মধ্যদিয়ে। এরপর তিনি গুলশান এভিনিউ’ ধারাবাহিকের সেট ডিজাইনের কাজও করেন। কিন্তু সেখান থেকে নিজেকে সরিয়ে প্রথম চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করেন ঝন্টু জগি পরিচালিত ‘গুড়’ নাটকের। এ নাটকে অভিনয় করেছিলেন অপূর্ব ও চাঁদনী। প্রথম অপূর্ব কোন নাটকে গ্রামের একটি ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেন। এই নাটকে তার সিনেমাটোগ্রাফির প্রশংসা করেন প্রখ্যাত সিনেমাটোগ্রাফার রাশেদ জামান, যার কাজ চন্দনকে সবসময়ই মুগ্ধ করতো। একসময় রাশেদ জামানের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়ে তারসঙ্গে সহকারী হিসেবে দেড় বছর টানা কাজ করলেন। জেনে নিলেন সিনেমাটোগ্রাফি সম্পর্কে বিষদ। এরপর সময় আসে সিনেমাটোগ্রাফিতে নিজের মেধাকে প্রমাণ করার। রিজভী ওয়াহিদের ‘চোখেরই পলকে’ গানটির মিউজিক ভিডিও নির্মাণের কাজ পান তিনি।

মডেল হিসেবে তানজিন তিশা’কে নিয়ে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন চন্দন। গানটি প্রকাশ হবার পর নির্মাতা হিসেবে দারুণ আলোচনায় চলে আসেন চন্দন। গানটির জনপ্রিয়তার সুবাদে তানজিন তিশাও একজন মডেল হিসেবে বেশ আলোচনায় চলে আসেন। পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আর চন্দন রায় চৌধুরী ও তানজিন তিশাকে। এরপর একে একে তিনি পূজার ‘বৃষ্টি’, ‘ইমরানের ‘ফিরে এসোনা’, ‘ধোঁয়া’, ‘ এ জীবনে যারে চেয়েছি’, ‘তাহসান খানের ‘মন কারিগর’, তানজীব সারোয়ারের ‘ডুবে ডুবে’সহ আরো বেশকিছু জনপ্রিয় গানের মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেন তিনি। প্রথম তিনি সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করেন অনন্য মামুন পরিচালিত শুভশ্রী ও অঙ্কুশ অভিনীত ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’ সিনেমার। এরপর তিনি শামীম আহমেদ রনির ‘মেন্টাল’, সৈকত নাসিরের ‘দেশা দ্য লিডার’, ইফতেখার চৌধুরীর ‘বিজলী’, মোস্তফা কামাল রাজের ‘সম্রাট’, ইদ্রিস হায়দারের ‘নীল ফড়িং’এর সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করেন। চন্দন রায় চৌধুরীর মা দীপ্তি রায় চৌধুরী। পরিবারের ভাই বোনদের মধ্যে সবার ছোট তিনি। বিয়ে করেননি এখনো। কারণ হিসেবে চন্দন রায় চৌধুরী বলেন,‘ যখন চারুলকলায় পড়তাম তখন থেকেই আসলে আমার স্বপ্ন একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করার। সেই স্বপ্ন বুকে লালন করেই কিন্তু আমি ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছি স্বপ্ন পূরণের পথে। একটু একটু করে নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছি আমি। তো আমার সেই স্বপ্নটা পূরণের পর বিয়ে করবো। তার আগে নতুন করে জীবনের বাঁক বদল করতে চাইনা এখনই। আগে চ্যালেঞ্জ নিয়ে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করে দর্শকের মাঝে আমার ভাবনার প্রকাশ ঘটাতে চাই। আমার বিশ্বাস আমি আমার কাজে সফল হবো। কারণ সেই আত্নবিশ্বাসকে বুকে নিয়ে বাবা মায়ের আশীর্বাদকে সঙ্গী করে এগিয়ে চলেছি আগামীর পথে।’ অনেক সঙ্গীতশিল্পীই তাদের মিউজিক ভিডিও চন্দন রায় চৌধুরীকে দিয়ে নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন। কখনো কখনো ব্যাটে বলে মিলে গেলে স্বপ্ন পূরণ হয় তাদের , আবার কখনো কখনো চন্দনের নির্দেশনায় নিজেদের আলোকিত করতে দীর্ঘ সময়ও অপেক্ষা করতে হয়। কারণ চন্দন রায় চৌধুরী এখন একটি ‘ব্র্যা- নেম’।
ছবি : আলিফ হোসেন রিফাত

Leave a Reply

এটাও পছন্দ করতে পারেন

নীরবে সব সয়ে যাওয়া একজন মানুষ আমার মা : ন্যান্সী

প্রশংসা ভাসছে লেনিনের ‘আমিতো ভাবতেই পারিনি’

উপস্থাপনাতেই নান্দনিক তিনি

যাত্রা শুরু হচ্ছে রবি’র ‘উত্তরা ফিল্ম অ্যাণ্ড টেলিভিশন একাডেমি’র

‘অন্যরকম ভালোবাসা’ দিয়ে শায়লা সাবির ফেরা

সাঁতারে ‘আইরিন তানি’

Copy link
Powered by Social Snap