সর্বশেষ আপডেট :নভেম্বর ১৩, ২০১৯
Ovinews24

তিন ভুবনের সফল মানুষ জামাল হোসেন…

সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯

অভি মঈনুদ্দীন: জামাল হোসেন, সত্যিকারের একজন সংগ্রামী মানুষ, একজন সফল মানুষ। বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনে তার বিচরণ ছিলো আগে থেকেই। কিন্তু এখন মনোযোগটা একটু বেশি যেন গীতিকবিতা রচনায়। কারণ এরইমধ্যে বাংলাদেশের অনেক গুনী শিল্পীর কন্ঠে স্থান পেয়েছে তার লেখা গীতিকবিতা। সেইসব গীতিকবিতা গানাকারে বাংলাদেশের প্রখ্যাত অনেক সঙ্গীতশিল্পীর কন্ঠে স্থান পেয়ে তা শ্রোতা দর্শকের কাছে হয়ে উঠেছে জনপ্রিয়। তাই একজন গীতিকবি হিসেবেও যেন তার ব্যস্ততা বেড়ে গেছে অনেকাংশেই। প্রতিনিয়তই ভালো ভালো গীতিকবিতা লেখায় অনুপ্রাণিত হচ্ছেন তিনি। জীবনের নানান ভাবনার সন্নিবেশ ঘটে তার গীতিকবিতায়। আর সেই ভাবনাই যেন সঙ্গীতশিল্পীদের কন্ঠে হয়ে উঠে জীবন্ত। একজন গীতিকবি হিসেবে এখন অনেকটাই সফল জামাল হোসেন। ব্যক্তি জীবনেও তিনি একজন সাদা মনের মানুষ। তার বিনয়, তার সদা হাস্যোজ্জ্বল মুখ খানি তার আশে পাশের সবাইকে মুগ্ধতায় ভরে রাখে। অন্যদিকে পেশায় সরকারী চাকুরীজীবি জামাল হোসেনের পদোন্নতি হয়েছে গেলো সপ্তাহে। গেলো ২৯ আগস্ট অর্থ মন্ত্রনালয়ের এক অফিস আদেশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মানীত সদস্য (শুল্ক ও আবগারী) হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। জামাল হোসেন বলেন,‘ আলহামদুলিল্লাহ। অবশেষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য হলাম। সকলের দোয়া প্রার্থী।’ মূলত শখের বশেই তার সাহিত্যাঙ্গণে বিচরণ। এরইমধ্যে তার লেখা গীতিকবি উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী কুমার শানুর কন্ঠেও স্থান পেয়েছে। স্থান পেয়েছে কলকাতার শুভমিতা, রাঘব, রূপঙ্করের কন্ঠে। আর এই দেশে সৈয়দ আব্দুল হাদী, সুবীর নন্দী, ফাহমিদা নবী, সামিনা চৌধুরী’সহ আরো অনেক সঙ্গীতশিল্পীর কন্ঠেই তার গীতিকবিতা স্থান পেয়েছে। জামাল হোসেনের লেখা প্রথম গান রন্টি দাশ গেয়েছিলেন। এর সুর সঙ্গীত করেছিলেন মুহিন। প্রথম গানটি ছিলো ‘রাতভর বৃষ্টির গান’। এরপর জামাল হোসেনের কথায় ‘মনের জানালা’, ‘গানে গানে কেটে গেলো’, ‘শ্রাবণ এলে’ ‘মিষ্টি মেয়ে’,‘বাঁশ বাগান’, ‘কিছুটা কুয়াশা’, ‘ভাবনার বাতায়নে’, ‘গাঙচিল’, ‘তুই যে আমার কতো আপন’ শিরোনামের গানগুলোতে কন্ঠ দিয়েছেন সৈয়দ আব্দুল হাদী , সুবীরনন্দী, ফাহমিদা নবী, পুলক, অপু, ঝিলিক, স্বরলিপি, নন্দিতা ও রাজীব। লুইপার গাওয়া ‘তোমার প্রতি ভালোবাস আজও তেমনি আছে’ গানটি শ্রোতাদের মনে বেশি দাগ কেঁটেছে। সর্বশেষ তার লেখা ‘বনে লাগলে আগুন’ মুহিনের সুর সঙ্গীতে পলাশের কন্ঠে রঙ্গন মিউজিক’এ প্রকাশিত হয়েছে। লেখালেখি প্রসঙ্গে জামাল হোসেন বলেন,‘ আমার লেখালেখির শুরুটা সেই ছোটবেলা থেকেই। আমার লেখার অনুপ্রেরণা নির্মলেন্দু গুণ। তবে এটাও সত্য যে আমার অফিসের সহকর্মীরা আমাকে লেখালেখির বিষয়ে খুউব অনুপ্রেরণা যোগান। নিজের লেখা গীতিকবিতা দেশবরেণ্য শিল্পীদের কন্ঠে শুনতে এক অন্যরকম আনন্দ, ভালোলাগা কাজ করে। এই ভালোলাগা সত্যিকার অর্থে ভাষায় প্রকাশের নয়। আমি মন থেকে বাংলাদেশের গানের হারিয়ে যাওয়া নিজস্ব ঐতিহ্যটাই ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি আমার গীতিকবিতার মধ্যদিয়ে। এরইমধ্যে ভালো গান লেখার জন্য বেশ সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি অপ্রকাশিত গানগুলো প্রকাশ্যে এলে আরো সাড়া পাবো। আমি আশাবাদী একজন মানুষ। তাই আমার গানের মধ্যদিয়ে সঙ্গীতাঙ্গন আরো সমৃদ্ধ হবে এই আশা করছি আমি।’ গেলো ঈদের আগেরদিন নাগরিক টিভিতে জামাল হোসেনের লেখা ‘স্মারক’ নাটকটিও দর্শকের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলে। নাটকটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, রহমত আলী, সাবেরী আলশ, নওশাবা’সহ আরো অনেকে। জামাল হোসেনের লেখা প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ছাত্র জীবনে দৈনিক আজাদ পত্রিকায় ‘মুকুলের মাহফিল’-এ। তাঁর প্রথম কবিতার বই ‘ভালোবাসার গণতন্ত্র’ ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়। তার লেখা অন্যান্য গল্পের বই হচ্ছে ‘সুবর্ণ দ্বীপে’, ‘কোথা সে ছায়া সখী কোথা সে জল’ এবং কবিতার বই ‘হরিণ চোখের শ্যামা মেয়ে’। জামাল হোসেনের স্ত্রী শাহীন আক্তার এবং একমাত্র কন্যা যারীন সাবাহ রঙ্গন। সবমিলিয়ে চাকুরী জীবন, গানের ভুবন আর সংসার জীবনের সফল মানুষ জামাল হোসেন।
ছবি: মোহসীন আহমেদ কাওছার

Leave a Reply

এটাও পছন্দ করতে পারেন

প্রকাশিত হলো তাদের ‘কোথাও কেউ নেই’

বশির আহমেদ’র ৮০’তম জন্মদিনে তাদের শ্রদ্ধাঞ্জলী

৩৫ বছর পর জাতীয় চলচ্চিত্র সম্মানায় উচ্ছসিত আঁখি

কাল প্রকাশ পাচ্ছে ইউসুফ-আনিকা’র ‘কোথাও কেউ নেই

দেশাত্ববোধক গানে সেরাকন্ঠের সেই তিন্নি

আমার কাছে এটি অনেক বড় সাফল্য-রুনা লায়লা

Copy link
Powered by Social Snap