সর্বশেষ আপডেট :May 27, 2020
Ovinews24

নায়ক রাজ’কে উৎসর্গ করে বাংলো’র নামকরণ

February 23, 2020

অভি মঈনুদ্দীন : নায়ক শব্দটি উচ্চারণ করতেই যার চেহারা আমাদের চোখের সামনে ভেসে আসে তিনি আমাদের নায়ক রাজ রাজ্জাক। হঠাৎ করেই যখন তিনি আমাদের সবাইকে ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমান সেই সময়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের নানান সংগঠনগুলো নায়ক রাজের নাম করণ করে অনেক কিছু করার প্রতিশ্রতি দিয়েছিলো। যারমধ্যে বিশেষত উল্লেখযোগ্য হলো নায়ক রাজের নামে সড়ক করা কিংবা নায়ক রাজের নামে বিএফডিসির কোন একটি ফ্লোর করা। আবার কেউ কেউ তার চেয়েও বেশি কিছু করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেই সময়। কিন্তু অনেক সময় পেরিয়ে যাবার পরও নায়ক রাজকে ঘিরে কিছুই করা হয়নি। অবশ্য তাতে তার পরিবার কোনরকম মনক্ষুন্ন হয়নি। কারণ জীবদ্দশাতেই নায়ক রাজের পরিবারকে নানান ধরনের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। আর মরনের পর কী হবে না হবে তা নিয়ে একেবারেই চিন্তিত ছিলোনা নায়ক রাজের পরিবার।

ছবিতে নায়ক রাজের স্ত্রী লক্ষী ও সুলতানা ফাইজুন্নাহার

তবে গেলো একুশে ফেব্রুয়ারির দিনে নায়ক রাজের স্ত্রী ও নায়ক রাজের বড় ছেলে বাপ্পারাজ শ্রীমঙ্গলের রাধানগরে গিয়েছিলেন ‘হারমিটেজ গেস্ট হাউজ’-এ। সেখানে গিয়ে নায়ক রাজ পরিবার বেশ বিস্মিতই হলেন। কারণ সেখানে গত ছয়মাস আগে গেস্টহাউজটির কর্ণধার আইনজীবী সুলতানা ফাইজুন্নাহার ছয়মাস আগে নির্মিত নতুন বাংলোটিটি নায়ক রাজ রাজ্জাককে উৎসর্গ করেন। উৎসর্গ পত্রে লেখা আছে ‘নায়করাজ রাজ্জাক স্মরণে-যিনি এই পর্ণকুটিরে একাধিকবার পদধূলি দিয়াছেন’। নিজের বাবার নামে বাংলা উৎসর্গ দেখে অনেকটাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন বাপ্পারাজ। বিষয়টি নিয়ে তিনি এতোটাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন যে বারবার চোখের জল ফেলছিলেন। বাপ্পারাজ বলেন,‘ আমি, আমার পরিবার শ্রদ্ধেয় সুলতানা ফাইজুন্নাহার আন্টির কাছে ভীষণ কৃতজ্ঞ। আমরা এমনিতেই ক’দিনের জন্য সেখানে বেড়াতে গিয়েছি। কিন্তু সেখানে গিয়ে এতোটা ভালোবাসা আর মায়ার জালে জড়াবো, ভাবতেও পারিনি। আব্বা চলে যাবার পর অনেকেই অনেক কিছু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বুঝতে পেরেছিলাম, কিছুই হবেনা। দিন যাচ্ছে সময় যাচ্ছে । আমার সেই ধারনা সত্যি হচ্ছে।

নায়ক রাজের বড় ছেলে বাপ্পারাজ ও সুলতানা ফাইজুন্নাহার

কিন্তু আমার সেই ধারণা একজন সাধারন মানুষের কাছে মিথ্যে হয়েগেলো। আমরা ফাইজুন্নাহার আন্টির ভালোবাসার কাছে হেরে গেলাম, ঋনী হয়েগেলাম তার কাছে। আব্বার প্রতি তার শ্রদ্ধা ভালোবাসা দেখে সত্যিই চোখে পানি চলে আসছিলো বারবার। আম্মাও আবেগাপ্লুত হয়ে উঠেন।’ সুলতানা ফাইজুন্নাহার বলেন,‘ আমার প্রিয় নায়ক নায়ক রাজ রাজ্জাক। পেশায় আমি একজন আইনজীবী হলেও বিগত বেশ কয়েকবছর যাবত আমি এই গেস্ট হাউজটি নিয়েই ব্যস্ত। সর্বশেষ যখন আমার প্রিয় নায়ক এখানে এসেছিলেন তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন যে তিনি আবার আসবেন। কিন্তু আর তার আসা হলোনা। তখন আমি খুব কষ্ট পাই। তাকে মনেরমতো করে রান্না করে খাওয়াতে পারিনি, ঠিক মতো সময় দিতে পারিনি। আমার ভেতর হতাশা কাজ করছিলো। তাই একসময় তার প্রতি ভীষণ শ্রদ্ধা ভালোবাসা থেকেই নতুন বাংলোটি আমি তাকে উৎসর্গ করি। আমি আমার নিজের মনের শান্তির জন্যই এটি করেছি। আল্লাহ নায়ক রাজকে বেহেস্ত নসীব করুন।’
ছবি : শাহাদাৎ হোসেন সবুজ

Leave a Reply

এটাও পছন্দ করতে পারেন

পঁচিশ বছর পর পপি…

‌ রত্নগর্ভা মায়ের সন্তান জায়েদ

মা ঠিকই বুঝে নেন কোনটা রাগ কোনটা অভিমান-শাহনূর

‘গরবিনী মা সম্মাননা’য় ভূষিত হচ্ছেন পূর্ণিমা’র মা

নিজের সামর্থ দিয়েই ৫০ পরিবারের পাশে চমক তারা

আক্কাস’কে মনে পড়ে আজও ববিতা’র

Copy link
Powered by Social Snap