সর্বশেষ আপডেট :May 27, 2020
Ovinews24

নীরবে সব সয়ে যাওয়া একজন মানুষ আমার মা : ন্যান্সী

May 10, 2020

বিনোদন প্রতিবেদক : সাংবাদিকতায় স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি মীনা অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছেন, তিনি সাদিয়া ইসলাম ন্যান্সী। বিনােদন সাংবাদিকতার পথ ধরে জেনারেল বিট’এ কাজ করতে এসেই ন্যান্সী স্বীকৃতিতে ভূষিত হন। চাকুরী করছেন এটিএন নিউজ’এ। নারায়ণগঞ্জের মেয়ে ন্যান্সী লকডাউনের এই দিনগুলােতে আছেন নারায়ণগঞ্জেই মায়ের কাছে। আজ বিশ্ব মা দিবসে ন্যান্সী তার মা ফেরদৌসী ইসলামকে নিয়ে না বলা কিছু কথা তার নিজ বয়ানে পাঠকের জন্য তুলে ধরেছেন। ‌’ মাকে নিয়ে অনুভূতিগুলো কেমন জানি। খুব অদ্ভুত। কিছু বলতে গেলেই চোখ ঝাপসা হয়ে গলা ধরে আসে আমার। খুব ছোটবেলায় যখন বুঝতে শিখেছি ঠিক তখন থেকেই আমার কাছে আমার মা একজন নীরবে সব সয়ে যাওয়া মানুষ।আমার দেখা শ্রেষ্ঠ,মা, স্ত্রী, বাড়ির বউ, কিংবা সর্বংসহা একজন নারী। ছোটবেলায় বেশিরভাগ সন্তানের প্রথম স্কুলে যাওয়া, ঘুরে বেড়ানো, শপিং করা, সব স্মৃতি বাবার হাত ধরেই শুরু হয়। কিন্তু আমার শুরুটা ছিল মায়ের হাত ধরে। তাই মা অথবা বাবা সব দুর্বলতা জায়গা এই মানুষটি।ভুল বলছি! শুধু বাবার জায়গা কেন আমার মা আমার কাছে পুরো পৃথিবী। আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। আজও যখন চায়ের টেবিলে একসাথে চা খেতে বসি তার জীবন সংগ্রামে গল্প শুনে সময়গুলো চোখে ভাসে। নিজের জীবনের খারাপ সময়গুলো চিন্তা করে যখন ভেঙে পরি তার সংগ্রামের গল্প শুনে উঠে দাঁড়াই বারবার। স্যাক্রিফাইস শব্দটার মানে তার জীবন থেকে দেখেছি আমি। হয়তো তার মত করে শিখতে পারিনি পুরোটা তবে অনুপ্রেরণা পেয়েছি জীবনের পরতে পরতে। মায়ের সাথে কাটানো ছোটবেলার স্মৃতি খুব মিস করি।বেশি মনে পরে মায়ের সাথে রান্নাঘরে বসে পড়াশোনার কথা। একান্নবর্তী পরিবার।তার ওপর বড় বউ।পরিবারের ১৮ জন সদস্য।বাড়তি পাওনা হিসেবে দাদার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লোকদের আনাগোনা। আমাদের দুই বোনকে পড়ানোর সময় কই তার? তাই বই খাতা নিয়ে রান্নাঘরেই পড়াশোনা শুরু। ফ্লোরে বসে পরতাম আমি আর রান্না করত আম্মু। তার ঘামে ভেজা মলিন মুখটা এখনো স্পস্ট মনে আছে আমার।স্বামী কাছে না থাকা,গ্রাম থেকে আসা, পনের কি ষোল বছরের একটি মেয়ে। তখন সে পরিপূর্ণ নারী হয়ে কতশত দায়িত্ব পালন ! শুধু দায়িত্বের কথা বললে ভুল হবে। সংসারের সদস্যের চোখের শাসন মেনে চলতে হয় তার। তখন মোবাইল ফোন ছিল না খুব একটা রাত জেগে বসে থাকত কখন আব্বুর ফোনের অপেক্ষায়। টিএনটি বেজে উঠলে আম্মুর চোখে মুখের উচ্ছাসটা আমার চোখে দেখা সেরা প্রেম। দেশের বাইরে থেকে আব্বু ফোন করলেও কোনোদিন কোনো অভিযোগ করতে শুনানি তাকে। তার কাছে সেই কস্টের মানেই নাকি সংসার। আজ তাঁর সংসারে সর্বেসর্বা সে নিজেই। তবুও পরিবর্তনের ছিটেফটাও নেই তার যে মানুষগুলো তাকে কস্ট দিয়েছে পরম যত্নে বুকে টনে নেয় তাদের। এটাই আমার মা!আমার কাছে মনে হয় পৃথিবীতে সবচেয়ে ধনী আর সুখী সে যার মা আছে। দিন শেষে এটাই একমাত্র নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। কখনো বলা হয়নি মাকে শতজন্মে তার মেয়ে হয়েই থাকতে চাই। অনেক ভালবাসি আম্মুকে.., যা হয়তো সবসময় বলার সুযোগ হয়ে উঠেনা। পৃথিবীর সব মায়েদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ভালোবাসা। সব মা’ই যেন সুস্থ থাকেন ভালো থাকেন। আমার মায়ের বুকের উঠোন’জুড়ে আমৃত্যু সেই ছোট্টবেলার ন্যান্সী’ই হয়ে থাকতে চাই। কারণ মায়ের কাছেই আমি আমার শান্তি খুঁজে পাই।

ছবি তুলেছেন আলিফ হোসেন রিফাত

Leave a Reply

এটাও পছন্দ করতে পারেন

প্রশংসা ভাসছে লেনিনের ‘আমিতো ভাবতেই পারিনি’

চলচ্চিত্র নির্মাণই চন্দনের স্বপ্ন

উপস্থাপনাতেই নান্দনিক তিনি

যাত্রা শুরু হচ্ছে রবি’র ‘উত্তরা ফিল্ম অ্যাণ্ড টেলিভিশন একাডেমি’র

‘অন্যরকম ভালোবাসা’ দিয়ে শায়লা সাবির ফেরা

সাঁতারে ‘আইরিন তানি’

Copy link
Powered by Social Snap