সর্বশেষ আপডেট :May 27, 2020
Ovinews24

পৃথিবীতে আসার দরজা মা’দের শ্রদ্ধা-সালাম…

May 9, 2020

১০ মে বিশ্ব মা দিবস। করোনা ভাইরাসের কারণে যদিও দিনটি বিশেষভাবে উদযাপনের তেমন কোন সুযোগই নেই। তারপরও মায়েদের সন্তানেরা তাদের মায়েদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা নিবেদন থেকে দূরে থাকবেনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সন্তানেরা তাদের মায়েদের নিয়ে নানান স্মৃতি তুলে ধরবেন। মায়েদেরকে নিয়ে সন্তানেরা তাদের স্বপ্নের কথা বলবেন। আবার কোন কোন সন্তান তাদের আজকের অবস্থানের নেপথ্যে মায়েদের ভূমিকার কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরবেন। আমাদের সংস্কৃতি অঙ্গনের ক’জন তারকা তাদের মায়েদের নিয়ে নিজের মতো করেই কিছু কথা বলেছেন। লিখেছেন অভি মঈনুদ্দীন

ছবি তুলেছেন মোহসীন আহমেদ কাওছার, আলিফ রিফাত, গোলাম সাব্বির।

কনকচাঁপা, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সঙ্গীতশিল্পী : মা, এতো মিষ্টি একটি ডাক,একটি অনুভব, এতো দৃঢ় একটি বন্ধন, এতো বড় আল্লাহর নেয়ামত যা আসলে বাতাসে অক্সিজেন এর মতো। দেখা না গেলেও উপস্থিতি টের পাওয়া যায় দমে দমে। আমার মা আমার অক্সিজেন, আমার ডিকশনারী, আমার কাঁটাতারের বেড়া, আমার বেলী ফুলের বাগান, আমার ঘড়ি, আমার ক্যালেন্ডার, আমার দাড়িপাল্লা এবং অনুভবের বিশ্বকোষ। মায়ের জন্য আমি পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মানুষ আলহামদুলিল্লাহ। সচ্ছল উচ্চশিক্ষিত পরিবারের বড় কন্যা বিয়ে হয়েছিলো অসম্ভব সৎ এতিম একজন শৌখিন চিত্রকর এর সাথে যিনি মনের বিরুদ্ধে চাকরি করতেন।

আমার মায়ের উৎসাহেই আসলে আব্বা চাকরি করতেন নয়তো আব্বা গান ফুল কবিতা মাছ ধরা বিশ্বে যা কিছু আছে তা নিয়ে গুরুতর ভাবনা আর চার পুত্রকন্যা কে নিয়েই কাটাতে পছন্দ করতেন। একবিন্দু ঘুষ না খাওয়ার কারনে মধ্যবিত্ত আমরা আসলে নিম্নমধ্যবিত্ত হয়ে গেছিলাম, আমার এক হাতে হাসি মুখে সামলাতেন। স্মিতবাক মা আমার খুব ধর্মপ্রাণ মানুষ কিন্তু অবশ্যই উদারপন্থী। কখনোই কোন কিছু চাপিয়ে দেননা। তবে আমাদের পড়াশোনার উপর খুব জোর ছিলো মায়ের। অনেক সময় আম্মার রূপ-লাবণ্য নিয়ে লিখেছি কিন্তু আমাকে মা লিখতে বারন করেছেন। কিন্তু একটা কথা বলতেই হয়, তিনি একজন অতি রূপবান মানুষ, তাঁর স্বামীও তাঁকে অনেক সাজগোজের সম্মতি দিতেন কিন্তু মা আমার হেলায় অবহেলায় তা পেছনে ফেলে ভেতরের সৌন্দর্য উদ্ভাসিত করার সাধনায় ব্যস্ত থাকেন। তাঁর ধর্মসাধন, দানধ্যান দেখার মতো। তাঁকে দেখেই আমি শিখেছি কিছু না থাকলেও শুধু সহমর্মিতা নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়। আমার মায়ের বয়স হয়েছে ৭৩! এখনো তিনি নিজের কাজ নিজে করেন, ধর্মকর্ম তো আছেই। তিনি আমার কাছে থাকলে আমার ঘড়ি দেখতে হয়না, আমি বুঝি আম্মা গোসলে যাচ্ছেন মানে সাড়ে এগারোটা অথবা শোবার আয়োজন করছেন মানে রাত দশটা।কিন্তু মাঝরাতে কখন ওঠেন তাহাজ্জুদের জন্য কখন সুবহে সাদিক এ দাঁত মেসওয়াক করেন তা আমি টের পাইনা তবে আমি এখন আমার মায়ের মতো সাধনা করতে চাই।নিজেকে তাঁর পথের অনুসারী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।আপনারা আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন। যে মানুষটা রাতবিরেত শীত গ্রীষ্ম নাই মহিলাদের মৃত্যুতে তাঁদের শেষ গোসলের দায়িত্বে ছুটে যান তার শেষ যাওয়া যেন তেমন সম্মানের হয়।আজই তিনি আমার কাছে এই দোয়া চেয়েছেন। আমি ও আপনাদের কাছে এই দোয়াই চাই। আর আল্লাহর কাছে চাই তাঁর দীর্ঘ নেক হায়াত। মা দিবসে সকল মাকে আমি শ্রদ্ধা ভালোবাসা। মাগো, তোমরা মানুষের অক্সিজেন, পৃথিবীতে আসার দরোজা মা, তোমাদের সালাম।

মমতাজ বেগম , জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সঙ্গীত শিল্পী : আমার মায়ের নাম উজালা বেগম। সারাটা জীবনই আমার মা তার সন্তানের জন্যই কষ্ট করে গেলেন। আমার আজকের মমতাজ হয়ে উঠা, আমার আজকের সংসদ সদস্য হয়ে উঠা সর্বোপরি একজন ভালো মানুষ হয়ে উঠার নেপথ্যে যে মানুষটির অবদান অস্বীকার করার কোন উপায় নেই তিনি আমার মহান হৃদয়ের অধিকারী আমার মা। মা সবসময়ই বলতেন, আশা ছেড়োনা-জীবনে সুন্দর সময় একদিন না একদিন আসবেই।

মায়েদের স্বপ্ন যে অপূরণ রাখেন না আল্লাহ আমাকে দিয়েই যেন আল্লাহ তা আবারো প্রমাণ করে দিয়েছেন। আল্লাহর কাছে অসীম কৃতজ্ঞতা যে তিনি এমন মায়ের গর্ভে আমাকে জন্ম দিয়েছেন। এখন শুধু মাকে ঘিরে একটাই চাওয়া আমার মা যেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ভালো থাকেন, সুস্থ থাকেন, আমি’সহ আমার পরিবারের সবাইকে নিয়ে তিনি যেন হাসি আনন্দে কাটিয়ে দিতে পারেন বাকীটা জীবন। কারণ সারা জীবন আমার মা কষ্ট করেছেন। মাকে কোনভাবেই কোন কারণে এতোটুকুও কষ্ট দিতে চাইনা। আমি আরো গর্বিত যে গত বছর আমারই কারণে আমার মা মাননীয় স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছ থেকে গরবিনী মা সম্মাননা’ গ্রহন করেছিলেন। এটাই ছিলো আমার জন্য আমার মায়ের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। সবাই আমার দরদিনী মায়ের জন্য দোয়া করবেন।

অরুনা বিশ্বাস , নন্দিত চলচ্চিত্রাভিনেত্রী : মায়ের কথা খুব কম কথায় বলা খুব কঠিন। মা হচ্ছেন সেই একজন মানুষ যার তুলনা পৃথিবীতে একমাত্র মাই। সত্যি বলতে কী মায়ের সঙ্গে কারো তুলনা চলেনা। শুধু একজনের সাথেই তুলনা চলে তিনি হলেন ঈশ্বর। মা হচ্ছেন আমার সেই ঈশ্বর। মায়ের জন্য অনেক কিছু করতে ইচ্ছে করে।

আমি আমার মাকে বিশ্বাস করেই পৃথিবীতে বেঁচে আছি , বেঁচে থাকবো। আমার যে পূজা আমি তাদেরকে ঘিরেই করতে চাই। মাকে নিয়ে আমার অনেক আহবলাদ আছে। এই সুন্দর পৃথিবী আমাকে আমার মাই দেখিয়েছেন। তাই মাকে ছাড়া আমি একেবারেই অচল। আমার গরবিনী মায়ের জন্য সবার কাছে আশীর্বাদ কামনা করছি যেন মা সবসময়ই সুস্থ থাকেন ভালো থাকেন। পৃথিবীর সব মায়ের জন্য অনেক শ্রদ্ধা ভালোবাসা।

আঁখি আলমগীর, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সঙ্গীতশিল্পী : আমি খুব ভাগ্যবান একজন সন্তান। আমার বাবার কারণে আমাদের বাসায় অনেক অনেক অভিনেতা অভিনেত্রীরা বাসায় আসতেন। আবার আমার মায়ের কারণে অনেক কবি সাহিত্যিকের আনাগোনা ছিলো বাসায়। আমার সঙ্গীত জীবনের পথচলায় আমার বাবা মা সবসময়ই আমার পাশে ছিলেন এবং এখনো আছেন।

আমার মায়ের লেখা অনেক গান আছে। মায়ের লেখা গান নিয়ে আমার গাওয়া এবং বিশিষ্ট শিল্পী যারা গেয়েছেন সেই হিট গানগুলো নিয়ে একটি অ্যালবাম করার পরিকল্পনা করছি। এটা আমার মায়ের প্রতি, মায়ের লেখা গানের প্রতি ভালোলাগা ভালোবাসা থেকেই করবো। কারণ এখন পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম কেউ শুনেন না। কিন্তু আমার মায়ের গানগুলো সংরক্ষণ করার জন্যই আমি তা করবো। আমার মায়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন, মা যেন সবসময় ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন। কারণ মায়ের কারণেই আজকের এই সুন্দর পৃথিবী দেখা। মা’যে কতোটা আগলে রেখে আদর ভালোবাসা দিয়ে আমাকে বড় করেছেন তা নিজের সন্তানের প্রতি সেই ভালোবাসার অনুভব থেকে উপলদ্ধি করি প্রতি মুহুর্তে।

তারিন জাহান, নাট্যাভিনেত্রী : আমার আম্মুর নাম তাহমিনা বেগম, আমার জীবনের আদর্শ। আমার শক্তি, আমার অনুপ্রেরণা, আমার সবকিছুই আমার মাকে ঘিরে। মা মাটি দেশ, এই তিনটি বিষয়ের মানুষের জীবনে অবদান অনস্বীকার্য। মা শব্দটি তাবৎ পৃথিবী সম্পর্কিত একটি শ্রদ্ধার শব্দ। এই পৃথিবীর আলো বাতাস এই যে নিশ্বাস নিচ্ছি তা মায়ের ত্যাগের কারণেই জন্মের শুরু থেকেই নিতে পারছি। মায়ের যেমন বিকল্প হয়না,ঠিক তেমনি মায়ের কোন তুলনা হয়না। আমার জীবনে মায়ের অবদান বলে শেষ করা যাবেনা। ছোটবেলা থেকে আমার বেড়ে ওঠা, আমার শিক্ষা, আমার নৃত্যশিল্পী হয়ে উঠা, সঙ্গীত শিল্পী হয়ে উঠা, সর্বোপরি একজন অভিনেত্রী হয়ে উঠার পেছনে আমার মায়েরই অবদান সবচেয়ে বেশি। মায়ের কাছেই আমার গানে হাতেখড়ি। অভিনয় জীবনের শুরুতে মা’ই ছিলেন আমার কোআর্টিস্ট। যখন কোন স্ক্রিপ্ট হাতে পেতাম তখন মাই হতেন আমার কোআর্টিস্ট। অভিনয়ের চর্চা করতাম এভাবেই। আর এভাবেই আমার অভিনেত্রী হয়ে উঠা। আমার মা খুউব মেধাবী ছিলেন। তার ইচ্ছে ছিলো বলেই আমি আজ অভিনেত্রী তারিনে পরিণত হতে পেরেছি। আমার মা যেভাবেই থাকুন, সবসময়ই যেন আল্লাহ ভালো রাখেন এই দোয়া চাই সবার কাছে।’

জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, অভিনেতা : সত্যি বলতে কী বিগত বহুবছর আমি টানা এতো বেশি ব্যস্ত ছিলাম যে মায়ের সঙ্গে প্রাণখুলে কথা বলারও সুযোগ ছিলোনা আমার। কারণ সারাদিন শুটিং-এ থাকতাম। বাসায় ফিরে ক্লান্ত আমি কোনরকম ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়তাম। আম্মুকে সময় দেয়া হতোনা। কিন্তু এই করোনা’য় লকডাউনের সময়টায় একটি সুবিধা হয়েছে যে আম্মুকে সময় দিতে পারছি, এটা আমার জন্য সত্যিই অনেক বড় পাওয়া। শুধু আম্মুকেই নয় পুরো পরিবারকেই আসলে সময় দিতে পারছি। জীবনের এই একটু পরিবর্তন দরকার ছিলো।

এখনো আমি যখন কাজের প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হই আম্মু নিজের হাতে সকালে চা’টা আমাকে বানিয়ে দেন। আমার জন্য আম্মু গরবিনী মা সম্মাননা’ পেয়েছিলেন ২০১৬ সালে। সেটাও ছিলো আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। আমার খুউব মনে পড়ে আমি যখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি তখন আমার টিউশনির টাকা দিয়ে আম্মুকে ইটিশেনের গহনা কিনে দিয়েছিলাম। সেটা পেয়ে আম্মুর উচ্ছসিত সেই মুখটি এখনো আমার চোখে ভাসে। আম্মুর শতভাগ উৎসাহে অনুপ্রেরণায় আমি আজকের অপূর্ব। এটা সত্য যে, আমার সৌভাগ্য যে আমি আমার আম্মুর পছন্দের স্ক্রিপ্টে অভিনয় করতে পারি। আমার আম্মুর জন্য সবাই দোয়া করবেন।
পপি, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রনায়িকা : আজ আমার জীবনের অন্যরকম দিন। কারণ আজ মা দিবস। আমার জন্মের মধ্যদিয়ে আমার মা মা হতে পেরেছিলেন। তাই মাকে মা হিসেবে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই। আর আজকের দিনে বার বার শুধু বলতে চাই , আম্মু আমি তোমাকে অনেক অনেকে ভালোবাসি। কিন্তু তোমাকে তা বলে হয়ে উঠেনা। তোমাকে নানান সময় অনেক কষ্ট দিয়েছি। ক্ষমা করে দিও।

আর আমাদের সব ভাই বোনদের তুমি তোমার আশীর্বাদের মধ্যে রেখো সবসময়। তুমি ছাড়া আমার এতো সুন্দর জীবন কখনোই হয়ে উঠতোনা। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি যে আমি তোমার গর্ভে জন্মেছি মা। আমি এর আগে অভিনয়ের জন্য তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছি। কিন্তু আমার মা আমার জন্য গরবিনী সম্মাননা’য় ভূষিত হয়েছিলেন গেলো বছর। ওটা ছিলো আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। দোয়া করি আল্লাহ যেন আমার মাকে সুস্থ রাখেন ভালো রাখেন।
দিঠি আনোয়ার , সঙ্গীত শিল্পী, উপস্থাপিকা : আমি আমার মা বাবার আদর্শেই নিজেকে গড়ে তুলেছি। এটা সত্যি যে আমার আম্মু এক সময় জনপ্রিয় উপস্থাপিকা ছিলেন। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থেকে আম্মু আমার এবং আমার ভাইয়ের কথা চিন্তা করেই আমাদের জন্যই নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। এটা খুব সহজ কথা নয়। কারণ আম্মু মনে করতেন যে সংসারে স্বামী স্ত্রী দু’জনই যদি কাজে ব্যস্ত থাকে তাহলে সন্তানরা মানুষ হবেনা। সেই ভাবনা থেকেই আমার আম্মু তার জনপ্রিয়তাকে পেছনে ঠেলে সংসারে মনোযোগী হয়ে উঠেন, সন্তানদের জন্য নিজেকে নিবেদিত করলেন।

আমরা ভাই বোন মানুষ হতে পেরেছি। আলহামদুলিল্লাহ। এটা সত্যি যে আমার গানের পেছনে আমার আম্মুর অবদানই সবচেয়ে বেশি। আমার মায়ের স্বপ্ন ছিলো সঙ্গীতশিল্পী হবার। কিন্তু পারিবারিক কারণে আম্মুর তা হয়ে উঠা সম্ভব হয়নি। যে কারণে আম্মু তার সেই স্বপ্ন আমাকে দিয়েই পূরণ করলেন। আমি যে রান্না করতে পারি সেটাও শিখেছি আমার আম্মুর কাছ থেকে। মূল কথা আজকের আমি যা তার পুরোটাই আমার আম্মুর কারণেই হয়ে উঠা। দোয়া করি আমার আম্মুকে যেন আল্লাহ ভালো রাখেন, সুস্থ রাখেন, দীর্ঘজীবি করেন। পৃথিবীর সব মায়ের জন্য শ্রদ্ধা, ভালোবাসা।
মোজেজা আশরাফ মোনালিসা, মডেল-অভিনেত্রী : আম্মুই আমার জীবনের সব। আম্মুই আমার জীবনের চলার পথের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা, শক্তি। আম্মুই আমার জীবনকে গড়ে দিয়েছেন। যে কারণে আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি দেশের বাইরে এসেও জীবনকে পরিচালিত করতে পারছি। আমার জীবনে আম্মুর শিক্ষা, আম্মুর আদর্শ, আম্মুর ভূমিকা অপরিসীম। আম্মু আমাকে অনেক ভালোবাসেন, আদর করেন, আর এটা আমি এখন খুউব মিস করি।

প্রতিদিনই এখন আর আগের মতো বলতে পারিনা মাগো আমি তোমায় অনেক ভালোবাসি। তারপরও বারবার বলতে ইচ্ছে করে আমার মাকে আমি আমার জীবনের চাইতেও বেশি ভালোবাসি। মাকে কেউ জেনে শুনে কষ্ট দিতে চায়না। আমিও চেষ্টা করি আমার কোন কারণে যেন আম্মু কষ্ট না পান। আমার খুউব ইচ্ছে করে পৃথিবীর সব সুখ আম্মুকে দিতে। আমার আম্মু সবসময়ই ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক এই দোয়াই করি। এই মুহুর্তে আমি আমেরিকা, আম্মুও দেশে নেই। অন্য একটি দেশে আছেন। শুধু মনে মনে চাইছি আম্মু যেন ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন। করোনাক্রান্তির সময়কাল চলেগেলে যেন আবার আম্মুর বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে পারি।
রুনা খান, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী : মা এবং সন্তানের সম্পর্কটা এমনই একটি সম্পর্ক যা পৃথিবীর কোনকিছু দিয়ে হিসাব, বিচার, মূল্যায়ন করা যায়না। কোনভাবেই এই সম্পর্কের গভীরতাও ভাষায় প্রকাশের নয়। মা, সন্তান সম্পর্কটা অনুভবের বিষয়। পৃথিবীর সব মাই তার সন্তানদের ভালোবাসেন। আমি আমার জীবনে কিছুই হতে পারিনি, কিন্তু তারপরও এই জীবনের সবচেয়ে বেশি অবদান যে মানুষটির তিনি হচ্ছেন আমার মা। ছোটবেলা থেকে শুরু করে আমার কর্মজীবন, এমন কী বিয়ের পরে আমি যখন রাজেশ^রীর মা ঠিক এই সময়ে মা আমার পাশে যেভাবে থেকেছেন, সমর্থন করেছেন। সেই ঋণ পৃথিবীর কোনকিছু দিয়েই শোধ করা সম্ভব না।

সন্তানের জন্য মা করেই যেন আনন্দ পান। সত্যি বলতে কী আমার জীবনে যা কিছু ভালো সবকিছুর পেছনে সবচাইতে বেশি অবদান আমার মা আনোয়ারা খানের। আমি সেই সৌভাগ্যবান মানুষদের একজন যে মায়ের সঙ্গে থাকার, পাশাপাশি থাকার সুযোগ পেয়েছি। নানান ধরনের মতেরও অমিল হয় আম্মার সঙ্গে। মাঝে মাঝে আম্মা এমনভাবে ভাবভঙ্গি প্রকাশ করেন যেন মনে হয় আমি ভুল করছি। আমি যে বড় হয়েছি সেটা মা হয়তো ভুলেই যান। আমরা মা মেয়ে অনেক ঝগড়াও করি। তারপরও বলবো আমার সবচেয়ে ভালোবাসার মানুষের মধ্যে আমার মা মেয়ে দু’জন। আম্মার দীর্ঘায়ূ কামনা করি, আম্মা আমৃত্যু আমার পাশে থাকুক।
বিদ্যা সিনহা মিম , জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রনায়িকা : যখন লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলাম সেই সময়টাতে আমি মা বাবাকে ছাড়া থেকেছি। তবে যেহেতু আমরা অনেকেই এই প্রতিযোগিতায় ছিলাম, তাই এক সময় কিছুটা অভ্যাস হয়েগিয়েছিলো মা বাবাকে ছাড়া থাকার। কিন্তু সেটা কিছুদিনের জন্য। এরপর আমার যতোদূর মনেপড়ে মাকে ছাড়া অন্তত আমি একা কোথাও থাকিনি। কারণ একথায় বলতে গেলে বলতেই হয় মা ছাড়া আমি একদমই অচল, মাকে ছাড়া পথ চলতে হবে এটা আমি ভাবতেই পারিনা। আমরা দুই বোন, আমি আর মমি। ছোটবেলা থেকেই মায়ের সাথে বুক আগলে রেখে বড় হয়েছি। মায়ের ভালোবাসা, আদর, মমতায় নিজেকে গড়ে তুলেছি মায়ের স্বপ্নের মতোই। আমি দেশের বিখ্যাত কিছুটা একটা হবো এটা মায়েরই স্বপ্ন ছিলো। তাই মায়ের স্বপ্ন পূরণে এখনো আমি নিরলস পরিশ্রম করে যাবার চেষ্টা করছি। আমি হয়তো এখনো মায়ের কাছে তেমন কিছুই হতে পারিনি। কিন্তু তারপরও মা আমাকে যেভাবে প্রতিনিয়ত উৎসাহ দেন তাতে আমি অবাকই হই। কারণ তার এই যে ধৈর্য্য, এটাকে আমি শ্রদ্ধা জানাই। আমি বড় হয়েছি এটা আমি যেমন মাঝে মাঝে প্রমাণের চেষ্টা করি, কিন্তু মা কোনভাবেই মানতে রাজি নন যে আমি বড় হয়েছি।

অবশ্য এটা আমার ভালোলইলাগে। মায়ের বুকে মাথা রেখে শুয়ে থাকতে আমার নিজের মধ্যে এক অন্যরকম শান্তি কাজ করে। এই শান্তি পৃথিবীর আর কোথাও নেই। বিধাতা আর কোথাও এমন শান্তির স্থান সৃষ্টিও করেননি। তাই আমি আজীবন এই শান্তির স্থানেই থাকতে চাই, মাকে ভালোবেসে যেতে চাই আজীবন। বিভিন্ন কারণে কারো উপর রাগ হলে আমি মায়ের সঙ্গেই রাগারাগি করি। মা এটা বুঝে ঠিকই আমাকে শান্ত করেন, এমনভাবে কিন্তু আমাকে আমার মা ছাড়া আর কেউই বুঝবেন না। বুঝবেন না বলেই পৃথিবীতে মায়ের কোন তুলনা হয়না, মায়ের বিকল্প হয়না। এই পৃথিবীর বুকে আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু আমার মা। তাই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা মা যেন সবসময় সুস্থ থাকেন ভালো থাকেন। আমি, আমার বোন, আমার বাবা মাকে নিয়ে যেন ভালো থাকতে পারি এই প্রার্থনাই করি সবসময়।
নিশীতা বড়ুয়া, সঙ্গীতশিল্পী : আমার আজকের আমার আমি হয়ে উঠা, একজন সঙ্গীত শিল্পী হয়ে উঠার নেপথ্যে যার সবচেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে তিনি আমার মা। আমি জয়েন্ট ফ্যামিলিতে বড় হয়েছি। আমার কাকুরাও আমাকে শাসন করতেন। আমার মা তা মেনে নিতেন মন থেকেই। কারণ আমার মা চাইতেন সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে। আমার পরিবার ভীষন কনজারভেটিব একটি পরিবার। তারপরও মায়েরই কারণে আমি দুই বছর দেশের বাইরে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম।

এরপর আরাে পড়াশুনা করা, ক্লোজআপ ওয়ান’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করা মায়ের কারণেই সম্ভব হয়েছে। মা না থাকলে কোনভাবেই আজকের নিশীতা’র এই প্লাটফরম তৈরী হতোনা। এখন সাধারণত আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো অবস্থানটি কিন্তু মা’ই তৈরী করে দিয়েছেন। মাকে কখনো কষ্ট দিয়েছি মনে পড়েনা। তবে পঞ্চম শ্রেণীতে বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হতে যখন পারিনি তখন মা খুউব কষ্ট পেয়েছিলেন। কিন্তু এটা সত্যি মায়ের খুশীর জন্যই সারাটি জীবন কাজ করে যাবো আমি। ঈশ্বর আমার মাকে যেন সবসময় ভালো রাখেন, সুস্থ রাখেন এই আশীর্বাদই করি। পৃথিবীর সব মাকে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা।
তানজিন তিশা, নাট্যাভিনেত্রী : ১০ মে বিশ্ব মা দিবসে পৃথিবীর সকল মায়েদের প্রতি রইলো অনেক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা। পৃথিবীর সব মায়েরা যেখানেই থাকুক তাদের সন্তানদের নিয়ে ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক, সুন্দর থাকুক। সত্যি বলতে কী করোনা ভাইরাসের কারণে সারা পৃথিবীতেই বিপর্যয় নেমে এসেছে। সেই বিপর্যয় নেমে এসেছে আমাদের জীবনেও। কিন্তু তারপরও এই সময়টা আমাদের ধৈর্য্য ধরে পার করতে হবে।

আমার আম্মু আমাকে এ ব্যাপারে খুউব সহযোগিতা করছেন। তিনি আমাকে সবসময়ই ধৈর্য্য ধরে আগামীর পথে এগিয়ে যেতে বলেন। আমিও তার কথা সবসময়ই মেনে চলার চেষ্টা করেছি। আমার আজকের তানজিন তিশা হয়ে উঠার নেপথ্যে আমার মায়ের অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে। আম্মু উৎসাহ, অনুপ্রেরণা না দিলে আমার আজকের অবস্থানে আসা সম্ভব হয়ে উঠতোনা। সবচেয়ে বড় কথা আম্মু সাহস দেন, প্রত্যয়ী হতে বলেন-এটা আমার জন্য অনেক বড় শক্তি। এটাও সত্যি মায়ের মতো আপন কেহ নাই। দোয়া করি আল্লাহ যেন আমার আম্মুকে সুস্থ রাখেন, ভালো রাখেন। আর তাকে না জেনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তিনি যেন আমাকে ক্ষমা করে দেন। আম্মু একটি কথা আজ বলতেই চাই, তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি আম্মু। তোমার গর্ভে জন্ম নিয়ে গর্বিত আমি মা।

পূজা চেরী, চিত্রনায়িকা : আমার কাছে আমার মা হচ্ছেন আমার পুরো পৃথিবী। আমাদের ভগবানকে আমরা যেমন পূজা করি ঠিক তেমনি আমি আমার মাকে পূজা করি। সত্যি বলতে কী আমার আজকের যতোটুকু আমি হতে পেরেছি তার পুরোটাই আমার মায়ের অবদান। সত্যি বলতে কী মাকে নিয়ে আমার এতো এতো গল্প যে তাকে নিয়ে বলতে শুরু করলে হয়তো সেই গল্প শেষ হবেনা। আমার মা আমাকে স্বাধীনভাবে পথ চলতে দিয়েছেন।

র কর্মক্ষেত্রে সবসময়ই আমার সঙ্গে আমার মা ছিলেন। আমি চেষ্টা করেছি আমার মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে। কারণ আমি যখন খুউব ছোট, সেই ছোট্ট বয়সেই মা আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন যে আমি যেন বড় হয়ে নায়িকা হই। আমাকে আমার মা সেভাবেই গড়ে তুলেছিলেন। আমার মায়ের আরেকটি স্বপ্ন রয়েছে, তা হলো আমি যেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য কিছু একটা করি। আমার মায়ের কথা হলো , আমি যেন তার এই স্বপ্নটা পূরণ করি। জানিনা পারবো কী না, তবে আমার প্রবল চেষ্টা থাকবে। আমার মা আমাকে আদর করে নানান সময়ে নানান নামে ডাকে, যেমন সোনার কলসী, রুপার কলসী। কোথায় যে মা এই নামগুলো পান জানিনা, তবে মায়ের মুখে যেকোন নামই আমার ভালোলাগে।
সানিয়া সুলতানা লিজা, সঙ্গীতশিল্পী : আমার সঙ্গে আমার আম্মুর সম্পর্কটা একটু অন্যরকম মধুর সম্পর্ক। আমার বাবার সঙ্গেও। তাদের দু’জনকে সবসময়ই আমার এটা ওটা গিফট করতে ভীষণ ভালোলাগে। আম্মুর সঙ্গে ঝগড়া করি , আবার কিছুক্ষণ পর সরিও বলি। মা মেয়ের সম্পর্ক যেমন মধুরতর হয় তেমনই সম্পর্ক আমাদের দু’জনের।

আম্মুর হাতের রান্না করা খাবার ছাড়া আমার আর কোন খাবারই একদমই ভালোলাগেনা। তাই যখন শো’র কারণে দেশে বিদেশে থাকতে হয় তখন খাওয়া নিয়ে আমার খুউব সমস্যা পড়তে হয়। আম্মু সবসময়ই আমার গান শুনেন। আমার গানের মধ্যেই আমি অন্যরকম সুখ খুঁজে পান। আমার লিজা নামটি আমার আব্বুর রাখা। আমার আম্মু আব্বু আমাকে নিয়ে গর্ব করেন সবসময়। এটা আমাকে পুলকিত করে। আমি সবসময়ই চেষ্টা করবো আমার কারণে যেন কখনো তারা কষ্ট না পান। তাদের জন্যই আমার এই পৃথিবীতে আসা। তাই সারাটি জীবন তাদের জন্যই নিবেদিত হয়ে থাকতে চাই।
জিনিয়া জাফরিন লুইপা, সঙ্গীতশিল্পী : আমার আম্মু বুঝেছিলেন বিধায় আম্মু আমাকে গানের সাথে ছোটবেলায় সম্পৃক্ত করে ছিলেন। আম্মু বুঝতে পেরেছিলেন আমাকে দিয়ে গানটাই ভালো ভাবে করিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। তাই আম্মুর শতভাগ চেষ্টায় আমি নিজেকে আজকের একজন সঙ্গীতশিল্পীতে পরিণত করতে পেরেছি।

মহান আল্লাহর কাছে অসীম কৃতজ্ঞতা যে তিনি আমাকে এমন একজন মায়ের গর্ভে জন্ম দিয়েছেন। আম্মুর সংস্কৃতির নানান ক্ষেত্র সম্পর্কেই সবসময় আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং জানেনও বটে। তবে তিনি আমার মধ্যে সঙ্গীতের প্রতি অনুরাগটা বেশি দেখেছিলেন বলেই আমাকে সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে গড়ে তুলেছেন। আমি মাকে জীবনে একবারই অনেক বড় কষ্ট দিয়েছি। বুঝতে পেরেছিলাম যে কষ্ট দিয়েছি। কিন্তু এটাও সত্যি পরবর্তীতে তা সবার জন্যই মঙ্গল হয়েছে। এখন আমরা পরিবারের সবাই বেশ ভালো আছি, আলহামদুলিল্লাহ। আর মা দিবসে আম্মুর প্রতি অনকে অনেক ভালোবাসা। আমার আম্মু পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ আম্মু।
ইউসুফ আহমেদ খান, সঙ্গীত শিল্পী : মা শব্দটা কার কাছে কী জানিনা। মা , একটি নির্ভরতার নাম। অবশ্যই বাবার অবদান কোন অংশেই কম না। মা কখনোই প্রতিদানে কখনোই কিছু চান না। পৃথিবীর অনেক সম্পর্কই দেয়া নেয়ার কথা চলে আসে। কিন্তু মা, নির্দ্বিধায় কোনকিছুর বিনিময়ের ভাবনা ছাড়াই কাজ করে যান আপনমনে। মা থেকে বড় পৃথিবীতে কিছু নেই। এই কথাটা বুঝতে আমরা যতো সময় নেই, ততোই মাকে আমরা কম পাই। ছোটবেলা থেকেই কোনদিনও মায়ের পছন্দ অনুযায়ী কোন কাজ করতে পেরেছি বলে আমার মনে হয়না। আমি পড়াশুনায় খুব অমনোযোগী ছিলাম।

তো তখন। কিন্তু এতোকিছুর পরেও আমাকে কখনো তিনি ছোট হতে দিতেন না। আমার জন্য যুদ্ধ করতেন তিনি। ছোটবেলা থেকে কোন খুশির খবর দিতে পারিনি, পারিনি মায়ের কোন স্বপ্ন পূরণ করতে। আদৌ পারবো কী না জানিনা। এটা সত্যি আমার মা আমার সকল স্বপ্ন পূরণে সবসময় পাশে দাঁড়িয়েছেন দৃঢ়ভাবে। আমরা যেন মাকে কেউ কষ্ট না দেই। মা থেকে পৃথিবীতে বড় কিছু ছিলোনা, নেই্ও, আসবেওনা। মাকে ভালোবাসলেই দেশকে ভালোবাসা হবে। মা দিবসে পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা। মাগো অনেক অনেক ভালোবাসি তোমায়, কিছুই দিতে পারিনি তোমায়, ক্ষমা করো আমায়।

অধরা জাহান, উপস্থাপিকা, গীতিকার : মা, পৃথিবীর সর্ব কনিষ্ঠ একটি শব্দ যার বিশালতা সর্ব বৃহৎ আকাশ সমান, গভীর ঘন অমানিশায় যেমন একটি নক্ষত্রও যদি জেগে থাকে সেই গোটা পৃথিবীতে আলোর জানান দেয়। ঠিক তেমনি, জন্মের পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমাদের জীবন হাজারো মানুষের মেলা বসে, নিয়তির নির্মমতায় যদি গোটা পৃথিবীর সব মানুষ সরেও যায়,থাকে যদি মা, ঝলমলে থাকে পৃথিবী এমনিতেই। কারণ এই মানুষটির ভালবাসা স্নেহ মায়া নিখাঁদ! বাকি সবেতেই স্বার্থের খেলা থাকে, আমার কাছে মা মানেই পবিত্রতার চিহ্ন, শুভ্রতার চিহ্ন!

আমার কাছে মা মানেই এক আশ্চর্যের অধ্যায়! কি নিখাঁদ অভিনয় করেন প্রতিদিন মায়েরা! আমার মা,যদি দেখে একটি খাবার আমি খুব তৃপ্তি নিয়ে খাচ্ছি,সে তার নিজের ভাগের খাবার টুকুন, তার খেতে ভালো লাগছে না বলে যাতে আমি আবার খাই তুলে রাখেন! শরীর খারাপ হলে পৃথিবী বিখ্যাত ডক্টরের চিকিৎসায় যে আরাম না হয়, মায়ের হাতটা শরীরে পড়লেই হাজার গুন সুস্থতা অনুভব হয়, আজকের এই পৃথিবীর অসুস্থতার সময়, আল্লাহর কাছে অসীম কৃতজ্ঞতা! আলহামদুলিল্লহ আমার মা আমার সাথে আছেন। আমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধনিদের একজন, কারণ আমার মা আছেন! আমার কাছে মায়ের শরীরের খুশবুটা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দামী ব্র্যান্ড এর পারফিউমকেও হার মানায় এবং আমি এই খুশবোটা গায়ে মেখেই গোটা জীবন পার করতে চাই। মায়ের সাথে বুড়ো হতে চাই। আমারও যখন বয়স বাড়বে তখন মা আর আমি মিলে ছোটবেলার স্মৃতিতে যেতে চাই। মা এক মায়ার নাম। মা এক নির্বিঘ্নে পথচলার ভরসা’র নাম।

শান্তা জাহান, উপস্থাপিকা, মডেল : আমার মা আমার ভুবন, মায়ের আদর ভোলা যেমন কঠিন ঠিক তেমনি মায়ের বকাও ভোলা কঠিন। কষ্ট লাগে যখন মা না বুঝে বকা দেন। আগামী ১৩ মে আমার বাবার মৃত্যুবার্ষিকী। সেই ছোট্টবেলায় বাবাকে হারিয়েছি। তাই মা দিবসের আনন্দ আবার তার পরপরই বাবাকে হারানোর কষ্ট দুটোই আছে আমার। বাবাকে হারানোর পর মাই আমার বাবা। আমার ভালো মন্দ’ সবকিছু আমার মাই দেখেছেন। মায়ের অনুপ্রেরণাতেই এই পর্যায়ে আমার আসে।

মা সবসময়ই পাশে ছিলেন, এখনো আছেন। এটা সত্যি মায়ের সাথেই সবচেয়ে বেশি ঝগড়া হয় আমার। আবার মায়ের সাথেই সবচাইতে বেশি আহ্বলাদ। আমার হাতের রান্না খেয়ে সবাই খুউব প্রশংসা করেন, এর কারণ আমার মায়ের হাতের রান্না খুউব মজার। এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া মায়ের কাছ থেকে। তবে খারাপ গুণও পেয়েছি মায়ের কাছ থেকে। আমার যে প্রচণ্ড রাগ সেটা মায়ের কাছ থেকেই পাওয়া। একজন জিদ্দিী মেয়ে আমি। দোয়া করি মাকে যেন আল্লাহ সুস্থ রাখেন, ভালো রাখেন। মা দিবসে সকল মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা।
সানজিদা মাহমুদ নন্দিতা, সঙ্গীতশিল্পী : আমার সঙ্গীত জীবনে মায়ের ভূমিকা বলে শেষ করা যাবেনা। আমাকে সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে গড়ে তোলার মধ্যদিয়েই মা তার নিজের ইচ্ছেটা পূরণ করেছেন। মা আমাকে সবসময়ই বলতেন আমি যেন গানটাকে কখনো না ছাড়ি। তাই ছোটবেলায় মায়ের কথামতো বাবা বাসায় গানের ওস্তাদ রেখে দিয়েছিলেন। আমি আর আমার ছোট ভাই গান শিখতাম। কিন্তু দেখা যেতো যে আমরা এতো ছোট ছিলাম যে আমার মা ওস্তাদের কাছ থেকে গান তুলে রাখতেন পরবর্তীতে মায়ের কাছে আমরা তা শিখতাম।

এভাবে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত মা আমাকে পড়াশুনাও করাতেন আবার গানও শেখাতেন। ছোটবেলা থেকেই মাকে দেখেছি অনেক কঠিন কঠিন গান ক্যাসেটে শুনতেন। সেসব গানই মা আমাকে তুলে দিতেন। যে কারণে অনেক কঠিন গানও আমার কাছে সহজ হয়ে যায়। ছোটবেলায় নানান ধরনের প্রতিযোগিতায় মা’ই আমাকে নিয়ে ছুটে বেড়িয়েছেন। তাই আমার আজকের এই সাফল্যের পিছনে মায়ের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। মাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি আমি। কিন্তু পরবর্তীতে যখন তা উপলদ্ধি করেছি তখন খুউব খারাপ লেগেছে। সত্যি বলতে কী মাকে কখনো কলা হয়ে উঠেনা কতোটা ভালোবাসি, কতোটা অনুভব করি। তাই আজ বলতে চাই মা, তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি।

কানিজ খাদিজা তিন্নী, সঙ্গীতশিল্পী : আমার আম্মু, আমার সব কিছু… যাকে ছাড়া কল্পনা করতে পারি না একটা দিন।। আমার দুনিয়া এক দিকে আর আমার আম্মু একদিকে…

আমার মা যখন হাসে তখন খুব ভালো লাগে। কিন্তু আমার মা যখন আমার জন্যে হাসে তখন মনে হয় জীবনে যা করেছি সব কিছুই স্বার্থক , এত দিন এর যত অর্জন সব মা এর জন্যেই । না থাকলে ভরসা পেতাম না.. সাহস পেতাম না। মা তোমায় অনেক ভালোবাসি।

Leave a Reply

এটাও পছন্দ করতে পারেন

মেকাপ আর্টিস্ট মোহসীনের সাফল্যের দুই যুগ

বাবা হলেন ফটোসাংবাদিক মোহসীন আহমেদ কাওছার

‘বশির আহমেদ সম্মাননা’য় ভূষিত কিংবদন্তী’রা

একই প্রতিষ্ঠানের দশটি শো’তে শান্তা জাহান

অভিনয়ে নয় উপস্থাপনাতেই প্রতিষ্ঠা চান নীল হুরেজাহান

নিইউয়র্কে মেয়ের মা বাবা হলেন রুমানা-এলেন

Copy link
Powered by Social Snap