সর্বশেষ আপডেট :December 6, 2019
Ovinews24

‘বেসিক কোর্স করানোর মধ্যদিয়ে কারিগর সৃষ্টি করবো’ জাহাঙ্গীর হোসেন

August 27, 2019

জাহাঙ্গীর হোসেন, বাংলাদেশে ফ্রেম’র ইতিহাসে এই সময়ের একজন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য ফ্রেম কারিগরের নাম। তবে তার হাতে ফ্রেম এমন এক শিল্পতে পরিণত হয়েছে এখন তার দিক নির্দেশনাতেই গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী তার কারিগরেরাই অনন্য ফ্রেম নির্মাণ করতে পারেন। দীর্ঘ ১৪ বছর যাবত শুধু ফ্রেম নিয়েই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন জাহাঙ্গীর হোসেন। পেয়েছেন বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ফ্রেম’র প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি। গতকাল দুপুরে রাজধানীর গাউসুল আজম সুপার মার্কেটে বসে তার সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠেন অভি মঈনুদ্দীন। তারসঙ্গে আলাপচারিতার চুম্বক অংশ পাঠকের জন্য লিপিবদ্ধ করা হলো।
অভি নিউজ : ফ্রেম নিয়ে কাজ করার স্বপ্নটা কবে থেকে শুরু হলো?
জাহাঙ্গীর হোসেন : সত্যি বলতে কী খুউব ছোটবেলা থেকেই আমি রাজধানীর অ্যালিফ্যান্ট রোডে রাজু গ্লাস হাউজে কাজ করতাম। এটা ছিলো আমার মামা ইদ্রিসের দোকান। সেখানে শুধু থাকা খাওয়ার সুবিধার্থে কাজ করেছি টানা ১৩ বছর। এক সময় ভাবলাম নিজেকেই ফ্রেম নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করতে হবে। বাবা, ভাইদের সঙ্গে আলাপ করে ফ্রেম ঘর’র যাত্রা শুরু করলাম।
অভি নউজ : কীভাবে কবে তা শুরু হলো?
জাহাঙ্গীর হোসেন : ২০০৩ সালের ১ মে আমার ভাইদের সঙ্গে নিয়েই ‘ভাই ভাই ফ্রেম ঘর’ নামে গাউসুল আজম সুপার মার্কেটে ফ্রেম’র ব্যবসা শুরু করি। এরপর ব্যবসা প্রসারিত হওয়ায় একসময় নিজেই তিন লক্ষ টাকা পূজি নিয়ে ‘জাহাঙ্গীর ফ্রেম ঘর’ নামে আলাদা ব্যবসা শুরু করি। এটা ২০০৫ সালের কথা। সময়ের ব্যবধানে গ্রাহকদের মধ্যে ‘জাহাঙ্গীর ফ্রেম ঘর’ একটি বিশ^স্ত এবং নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। আলহামদুলিল্লাহ আমার ব্যবসার বর্তমান অবস্থা নিয়ে আমি সন্তুষ্ঠ।
অভি নিউজ : আপনার এখানে কী কী ধরনের কাজ হয় এখন
জাহাঙ্গীর হোসেন : এখন আসলে কাজের পরিধি অনেক বেড়েছে। আগে শুধু ফ্রেম বানানো নিয়েই ছিলো আমার কাজ। আর এখন প্রিন্টিং সেকসন নিজেই চালু করেছি। ডিজিটাল ব্যানার, অফিসিয়াল আইডি কার্ড, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড, লেজার কাটিং’সহ আরো নানান ধরনের কাজ আমার প্রতিষ্ঠানেই হয়ে থাকে। আমার কোথাও সাধারণত এখন আর যেতে হয়না। যেতে হয়না মানে এই যে ফ্রেম বা আনুষঙ্গিক কাজগুলো আমার প্রতিষ্ঠানেই এখন করা সম্ভব।
অভি নিউজ : ইভেন্ট’র কাজ করেন কী?
জাহাঙ্গীর হোসেন : হ্যাঁ, একটি ইভেন্ট সুন্দরভাবে করার জন্য যাবতীয় যা যা করা দরকার সবই এখন জাহাঙ্গীর ফ্রেম ঘর’ করে দিচ্ছে অনায়াসে। এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি ইভেন্ট’র কাজ বেশ সুনামের সাথেই শেষ করেছি। বলা যেতে পারে এটাও জাহাঙ্গীর ফ্রেম ঘর’র আরো একধাপ এগিয়ে চলা। সবার দোয়ায় এবং সহযোগিতায়, আল্লাহর অশেষ রহমতে
অভি নিউজ : বড় বড় কোন কোন প্রতিষ্ঠানের কাজ করেছে আপনার প্রতিষ্ঠান?
জাহাঙ্গীর হোসেন : ব্যাক, ইউএনএফফি, একসন এইড, দৃক, পাঠশালা’সহ আরো বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের কাজ করেছে আমার প্রতিষ্ঠান। এসব কাজ করে আমি আমার প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছি বলেই আমি মনেকরি।
অভি নিউজ : আর যদি কৃতজ্ঞতার কথা বলা হয়?
জাহাঙ্গীর হোসেন : আমি ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ কিংবদন্তী ফটোগ্রাফার চঞ্চল মাহমুদ মামার কাছে। কারণ আমার ফ্রেম ঘরের শুরুতেই আমি তার মাধ্যমে অনেক কাজ পেয়েছি। আমি সারা জীবন তার কাছে ঋণী হয়ে থাকবো। দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে সুস্থধ রাখেন ভালো রাখেন।
অভি নিউজ : সম্মাননাও পেয়েছেন ফ্রেম ঘর’র জন্য, এই সম্মাননা অনুপ্রেরণা দেয় নিশ্চয়ই?
জাহাঙ্গীর হোসেন : অবশ্যই অনুপ্রেরণা দেয়। আমি আমার কাজে আরো স্বত:স্ফুর্ত হয়ে এগিয়ে যাই। আমি ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফি সোসাইটি, কেন্দ্রীয় কারাগার থেকেও ফ্রেম’র জন্য সম্মাননা পেয়েছি। এসব সম্মাননা আমাকে সত্যিই অনেক অনেক অনুপ্রেরণা যোগায়।
অভি নিউজ : আপনার প্রতিষ্ঠানে এখন কতোজন কাজ করছেন নিয়মিত?
জাহাঙ্গীর হোসেন : এখন ১৬’জন কাজ করছেন। তারা আমার দিক নির্দেশনাতেই সঠিকভাবে কাজ করেন।
অভি নিউজ : আপনার স্বপ্ন কী ফ্রেম নিয়ে?
জাহাঙ্গীর হোসেন : আমার স্বপ্ন ফ্রেম ব্যবসাটাকে শিল্পতে পরিণত করার। কারণ আমার সঙ্গে কাজ করে অনেকেই আলাভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন। কিন্তু তারা কারিগর তৈরী করেননি। যা আমি করি। তাই আমার ইচ্ছে আছে বেসিক কোর্স চালুর মধ্যদিয়ে ফ্রেম কারিগর তৈরী করার। যাতে ফ্রেম’র কাজ করেই যেন অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।
অভি নিউজ : আপনার কাজের অনুপ্রেরণা কারা?
জাহাঙ্গীর হোসেন : আমার পরিবারই আসলে আমার কাজের অনুপ্রেরণা। কারণ পরিবারের লোকজন আমাকে অনেক ছাড় দেন। আমার বাবা মো: সোবহান শেখ’কে ভীষণ মিস করি। বাবা বেঁচে থাকলে আমার আজকের অবস্থান দেখে নিশ্চয়ই খুশি হতেন। আমার মা হালিমা বেগম আমার সঙ্গেই আছেন। তার সেবা করতে পারছি, এটা অনেক বড় বিষয়। আমার স্ত্রী রুমা আক্তার। সে খুউব ভালো একজন রাঁধুনী। রান্না নিয়ে তার নিজস্ব স্বপ্ন আছে। আমার দুই সন্তান তাজ ও হাফসার জন্য সবাই দোয়া করবেন।

Leave a Reply

এটাও পছন্দ করতে পারেন

Copy link
Powered by Social Snap