সর্বশেষ আপডেট :March 28, 2020
Ovinews24

মায়ের সম্মাননা প্রাপ্তিতে গর্বিত মেয়ে

December 1, 2019

অভি মঈনুদ্দীন : জ্যোৎস্ন বিশ্বাস, স্বনামেই পরিচিত। এই দেশের যাত্রা শিল্পের যাত্রা সম্রাজ্ঞী তিনি। তার স্বামী স্বর্গীয় অমেলন্দু বিশ্বাস ছিলেন এই দেশের যাত্রা শিল্পের যাত্রা সম্রাট। ১৯৮৯ সালে অমলেন্দু বিশ্বাসকে একুশে পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত করা হয়। আবার জোৎস্না বিশ্বাসকে ২০১১ সালে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। দু’জনকেই যাত্রা শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। বরেণ্য যাত্রা শিল্পী জোৎস্না বিশ্বাসকে এবার তার সারাজীবনের অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ নাট্যদল ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’ ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় সম্মাননা’য় ভূষিত করতে যাচ্ছে। আগামী ৫ ডিসেম্বর রাজধানীর সেগুন বাগিচাস্থ শিল্পকলা একাডেমিতে জ্যোৎস্না বিশ্বাসের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি নিজেই। দেশের একটি বড় নাট্যদল থেকে এই সম্মাননা প্রাপ্তিকে অনেক বড় অর্জন হিসেবেই দেখছেন জ্যোৎস্না বিশ্বাস ও তার সুযোগ্য উত্তরসূরী কন্যা অরুনা বিশ্বাস। জ্যোৎস্না বিশ্বাস বলেন,‘ এর আগে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একুশে পদক’সহ আরো বহু সংগঠন কর্তৃক আজীবন সম্মাননা’সহ আরো অনেক ধরনের সম্মাননায় ভূষিত হয়েছি। তবে কোন নাট্যদল কর্র্তৃক সম্মাননা প্রাপ্তি এবারই প্রথম। আয়োজকদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি এই কারণেই যে এতকই সঙ্গে আরো বেশ কয়েকজন কিংবদন্তী এবং প্রতিথযশা নাট্য ব্যক্তিত্বও একই সম্মাননায় ভূষিত হবেন। এটা আমার জন্য সত্যিই অনেক অনেক ভালোলাগার।’ অরুনা বিশ্বাস বলেন,‘ বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গন যতোদিন থাকবে ততোদিন আমার বাবা মায়ের নাম থাকবে। তাদের অবদানকে এড়িয়ে যাবার কোনই উপায় নেই। আমার বাবা মায়ের কারণেই কিন্তু আমি কিংবা আমার ভাই, আমার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনেক সম্মানিত হই।

এটা সত্যিই অনেক ভালোলাগার এবং গর্বেরও বটে। আমার মাকে নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় সম্মাননায় ভূষিত করা হচ্ছে, বিষয়টি আমার জন্যও অনেক ভালোলাগার। তার মেয়ে হয়ে আমি সত্যিই অনেক উচ্ছসিত, আনন্দিত। অরুনা বিশ্বাস জানান তিনি তার মাকে নিয়ে এরইমধ্যে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। মাকে নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণের পর তিনি তার বাবা অমলেন্দু বিশ্বাসকে নিয়েও আরেকটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করবেন। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এই দু’জন কিংবদন্তীর যাত্রা শিল্পে অবদানকে জানান দিতে অরুনা বিশ্বাস এই দুটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করতে যাচ্ছেন। তবে অরুনা’র ভালোলাগতো যদি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তার বাবা মাকে নিয়ে তথ্য চিত্র নির্মাণ করা হতো। কারণ এই দেশের যাত্রা শিল্পের অগ্রপথিক তারা দু’জন। তাদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কাজও হওয়াই উচিত বলে মনে করেন তিনি। যাত্রা শিল্পে জ্যোৎস্না বিশ্বাস বিগত ৪৫ বছর ধরে অভিনয় করছেন। নিজে নির্দেশনাও দেন। সর্বশেষ প্রায় দশ মাসে আগে একটি যাত্রা পালায় তিনি অভিনয় করেন। এদিকে অরুনা বিশ্বাস অভিনয়ে নিয়মিত থাকার পাশাপাশি সেন্সর বোর্ডের মেম্বার হিসেবেও কাজ করছেন। এরইমধ্যে জসীমের নির্দেশনায় নতুন একটি সিনেমায়ও অভিনয় করছেন তিনি। এতে তার বিপরীতে আছেন শতাব্দী ওয়াদুদ।
ছবি : আলিফ হোসেন রিফাত

Leave a Reply

এটাও পছন্দ করতে পারেন

যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন শাহনূর

জনসচেতনতায় সচেতন জ্যোতিকা জ্যোতি

কবরী’র সিনেমার নতুন জুটি

‘অপারেশন সুন্দরবন’র মাধ্যমে সিনেমায় শাকিলা পারভীন

নায়ক রাজ’কে উৎসর্গ করে বাংলো’র নামকরণ

বাপ্পা, অমিত, শাবনাজের ‘প্রেমের সমাধি’র দুই যুগ

Copy link
Powered by Social Snap