সর্বশেষ আপডেট :December 6, 2019
Ovinews24

লাইফটাইম অ্যাচিভম্যান্ট অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত গাজী মাজহারুল আনোয়ার

September 15, 2019

অভি মঈনুদ্দীন : উপমহাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গীতিকবি, চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক, কাহিনীকার, পরিবেশক গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে লাইফ টাইম অ্যাচিভম্যান্ট আওয়ার্ডে ভূষিত করেছে ইন্টারন্যাশনাল রোটারি ক্লাব। গতকাল ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর রিজেন্সিতে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে তাকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। আন্তর্জাতিক এই অ্যাওয়ার্ড পাওয়া প্রসঙ্গে গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন,‘ যেকোন পুরস্কার প্রাপ্তিতে একটি তৃপ্তির ব্যাপার আছে। মানুষ যখন জীবিত অবস্থায় চলতে থাকে তখন তার নানান বিষয়ে, দিকগুলোকে বিবেচনা করে তার অবস্থানকে, অর্জনকে সম্মানিত করা হয় তখন জীবনটাকে অনেক সার্থক মনে হয়। এর আগেও আমি বহুবার জাতীয়ভাবে, আন্তর্জাতিকভাবে অনেক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি আমি। কিন্তু রোটারির পক্ষ থেকে লাইফ টাইম এচিভম্যান্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়ে আমি বিস্মিত হয়েছি। কারণ এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একটি পুরস্কার । সত্যিই আমি প্রীত হয়েছি, সমৃদ্ধ হয়েছি। এই পুরস্কার আমার মনের মধ্যে এক অন্যরকম ভালোলাগার জন্ম দিয়েছে। আবার এটাও সত্যি প্রত্যেকবারই প্রতিটি পুরস্কার পাবার পর আমার কাছে মনে হয়েছে যে আমার নব জন্ম হয়েছ। তখন মনে হয় সত্যিই জীবন সার্থক। সত্যিই জীবন সুন্দর।’ কুমিল্লা জেলা স্কুল এবং ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়াশুনা কালীন সময়েই তিনি কবিতা লিখতেন। তবে তার দু:খ একটাই, বাংলা ভাষার জন্য যে আন্দোলন হয়েছিলো সেই আন্দোলনে তিনি কোনভাবেই সম্পৃক্ত থাকতে পারলেন না। তাই কলেজে থাকাকালীন সময়েই তিনি এই দু:খবোধ থেকে ‘ছেলেটা ক্ষেপেছেওে ক্ষেপেছে’ নামে শহীদ মিনার নিয়ে একটি কবিতা লিখেন যা প্রথম পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিলো। রেডিওতে প্রচালিত তার প্রথম গান ছিলো ‘বুঝেছি মনের বনে রঙ লেগেছে’। গানটির সুর করেছিলেন প্রয়াত অভিনেতা, নির্দেশক নাজমুল হুদা বাচ্চু। গানটি গেয়েছিলেন ফরিদা ইয়াসমনি। মুক্তিযুদ্ধ চালকালীন সময়ে তারই লেখা ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’সহ আরো অনেক দেশাত্ববোধক গান সেই সময় মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন। সিনেমায় তার লেখা প্রথম গান সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘আয়না ও অবশিষ্ট’ সিনেমায় ‘আকাশের হাতে আছে এক রাশ নীল’ গানটি। গানটি গেয়েছিলেনআঞ্জুমান আরা বেগম। এখন পর্যন্ত গীতিকার হিসেবে তিনিই সর্বাধিক ছয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ১৯৯২ সালে আওকাত হোসেনের ‘উচিৎ শিক্ষা’র জন্য প্রথম পুরস্কার পান। এরপর একে একে তিনি দীলিপ বিশ্বাসের ‘অজান্তে’, এফ আই মানিকের ‘লাল দরিয়া’, শাহ আলম কিরনের ‘চুড়িওয়ালা’, মৌসুমীর ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ এবং সর্বশেষ গাজী মাজহারুল আনোয়ার সর্বশেষ গেলো বছর ১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। গাজী মাজহারুল আনোয়ার ১৯৮২ সালে প্রথম ‘নান্টু ঘটক’ সিনেমা পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে তিনি শাস্তি, সমাধি, বিচারপতি, চোর, সন্ধি, স্বাক্ষর, স্বাধীন, শ্রদ্ধা, ¯স্নেহ, উল্কা, তপস্যা, আম্মা, পরাধীন, আর্তনাদ, রাগী, জীবনের গল্প, এই যে দুনিয়া, পাষাণের প্রেম, হৃদয় ভাঙ্গা ঢেউ সিনেমা পরিচালনা করেন। তার প্রযোজনা সংস্থা ‘দেশ চিত্রকথা’ থেকে ৪৬টি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।
ছবি : মোহসীন আহমেদ কাওছার

Leave a Reply

এটাও পছন্দ করতে পারেন

একজন সাচ্চু অনেকের পথ প্রদর্শক

প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান চঞ্চল মাহমুদ ও তার স্ত্রী

শুভ জন্মদিন সুর স্রষ্টা ফরিদ আহমেদ

Copy link
Powered by Social Snap