সর্বশেষ আপডেট :সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯
Ovinews24

৩৪ বছর শিক্ষকতা শেষে অভিনয়ে ব্যস্ত মুক্তিযোদ্ধা কিসলু

সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯

অভি মঈনুদ্দীন : জিয়াউল হাসান কিসলু, দর্শকের কাছে গুনী এই ব্যক্তিত্ব একজন অভিনেতা হিসেবে পরিচিত হলেও মূলত পেশায় তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিহারে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিয়ে বরিশালের গৌর নদী’তে নিজ এলাকায় নয় নম্বর সেক্টরের হয়ে সেক্টর কমাণ্ডার মেজর জলিলের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। দেশ স্বাধীনের পর কিশোর সেই কিসলুর চোখে মুখে ছিলো যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার এক পরম সুখ। সেই কিসলুই পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা শেষ করে ১৯৮২ সালে ঢাকায় এসে ‘নিপুণ’ পত্রিকায় এক বছর সাংবাদিকতা করেন। ১৯৮৩ সালে তিনি ‘এশিয়াটিক’-এ চাকুরী করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে বিসিএস দিয়ে দর্শনা সরকারী কলেজ’এ যোগ দিয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। শিক্ষকতায় দীর্ঘ ৩৪ বছরের পথচলা শেষে গেলো বছর সরকারী তুলারাম কলেজ’র বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা শেষে অবসর নেন গুনী এই অভিনেতা। এখন অভিনয়েই বেশি ব্যস্ত তিনি। যেহেতু দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় শিক্ষকতা করেছেন সেই অভ্যাসটাকে ধরে রাখার জন্য মাঝে মাঝে রামেন্দু মজুমদারের ‘থিয়েটার’-এ ক্লাশ নিয়ে থাকেন। কিসলুর সম্পাদনায় এরইমধ্যে অভিনেতা আবুল হায়াতকে নিয়ে প্রকাশিত হলো ‘সার্থক জনম হে তোমার শিল্পী সুনিপুণ’। কিসলু এখন অভিনয়েই বেশি ব্যস্ত। এরইমধ্যে তিনি এনটিভিতে প্রচার চলতি ধারাবাহিক নাটক নজরুল ইসলাম রাজু পরিচালিত ‘ঘুমন্ত শহরে’র কাজ শুরু করেছেন। এতে তিনি এফ এস নাঈমের বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। গেলো ঈদেও তিনি তুহিন হোসেনের ঈদ ধারাবাহিক ‘ফ্যামিলি সিক্রেট’সহ ইমরাউল রাফাত ও অঞ্জন আইচের আরো দুটি নাটকে অভিনয় করেন।

জিয়াউল হাসান কিসলু বলেন,‘ শিক্ষকতা পেশা ভীষণ মিস করি। আমি যখন শিক্ষকতা করতাম তখন সবার মধ্যে মুক্তিযদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে আলাদা দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে কাজ করতাম। আবার বর্তমান কর্মক্ষেত্র নাটকেও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ছড়িয়ে দিতে সেই একই জায়গায় স্থির থেকে আমি কাজ করার চেষ্টা করি। শিক্ষকতা মিস করি বলেই মাঝে মাঝে থিয়েটারে ক্লাশ নিয়ে থাকি। ’ জিয়াউল হাসান কিসলু পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংশোধন ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ অন্তর্ভূক্তি করণ কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করেন ২০১০ সালে। জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি-এর পরিচালক ছিলেন যা শিক্ষকতা জীবনে তার সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রামে কলেজে পড়ার সময় কিসলু চট্টগ্রামের প্রথম গ্রুপ থিয়েটার ‘থিয়েটার ৭৩’র সাধারণ সম্পাদক হন। তার গুরু ছিলেন প্রয়াত অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। ১৯৭৮ সালের তারই নির্দেশিত জিয়া হায়দার রচিত ‘এলে বেলে’ মঞ্চ নাটকটি শিল্পকলা একাডেমির বাংলাদেশ নাট্যোৎসবে বিশেষভাবে পুরস্কৃত হয়। টেলিভিশনে কিসলু অভিনীত প্রথম নাটক ছিলো মমতাজ উদ্দিন আহমেদ’র ‘ফলাফল নিম্নচাপ’। ১৯৮২ সালে ঢাকায় আসার পর ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’র হয়ে তিনি মঞ্চে ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’,‘অচলায়তন’, ‘নূরুলদীনের সারাজীবন’ নাটকে অভিনয় করেছেন। এই দলের হয়ে বর্তমানে তিনি সারা যাকেরের রচনা ও নির্দেশনায় ‘ওপেন কাপল’ নাটকে অভিনয় করেও বেশ প্রশংসিত হচ্ছেন। তার অভিনীত একমাত্র সিনেমা তৌকীর আহমেদ’র ‘অজ্ঞাতনামা’। কিসলুর স্ত্রী রাফেজা শাহীন। তার দুই ছেলে সৌমিক ও ঐশিক। কিসলুর বাবা খলিফা আব্দুল হাই ও মা কানিজ হাবিবা বেগম।
ছবি : গোলাম সাব্বির

Leave a Reply

এটাও পছন্দ করতে পারেন

‘তথ্য আপা’ হয়ে দেশ বিদেশে শাকিলা পারভীন

বিচারকের ভূমিকায় ফারহানা মিলি

শুধুই উপস্থাপনায় নাবিলা মুশতারি

সোহানী ইশরাতের টার্গেট

তিতানের ‘গল্পটি সাধারণ নয়’

বাবাকে হারালেন সোহানা সাবা

Copy link
Powered by Social Snap