সর্বশেষ আপডেট :May 27, 2020
Ovinews24

৫০ পূর্ণ করছেন নাইম, জন্মদিনে পরিবারের সঙ্গে

May 7, 2020

অভি মঈনুদ্দীন : মহান মুক্তিযুদ্ধের ঠিক আগের বছর অর্থাৎ ১৯৭০ সালের ৮ মে এহতেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী’খ্যাত নায়ক নাইমের জন্ম হয়। তার বাবা খাজা মুরাদ হাফিজ উল্যাহ ও মা আসিয়া পন্নী। ছোটবেলা থেকেই পড়াশুনার পাশাপাশি গান বাজনার প্রতি ছিলো তার প্রবল আকর্ষণ। যে কারণে ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে তিনি যেমন পরিচিত ছিলেন ঠিক তেমনি গান বাজনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারণে সংস্কৃতি অঙ্গনের সবার কাছেই নাইম ছিলেন পরিচিত। প্রয়াত গায়ক শেখ ইশতিয়াক তাকে প্রথম গীটার কিনেদিয়েছিলেন। ওস্তাদ সুধীন দাশরে ছেলে নিলয় দাসের কাছে তিনি গীটার শিখেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই নাইম তবলা বাজাতে পারতেন। বাবার বাঁশি বাজানো দেখেই তিনি বাঁশিও বাজাতে শিখেন। । নাইমের খালার বাসায় গজলের আসর বসতো। সেখানেই সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকের সঙ্গে তার সখ্য তৈরী হয়। বিটিভির ‘সমাহার’ অনুষ্ঠানের আল মনসুরের নির্দেশনায় প্রথম মিউজিক ভিডিওতে মডেল হন নাইম, সঙ্গে ছিলেন তার ছোট বোন আফসা জিবা। ‘চলোনা যাই চলে দূরে বহুদূরে’র গানটিতে তখন কন্ঠ দিয়েছিলেন সামিনা চৌধুরী, সাবাতানি, শুভ্রদেব। এটি ১৯৮৬ সালের ঘটনা। সেই সময়েই নাইম ও তার বোন গীতিয়ারা সাফিয়ার অ্যাডকম থেকে সানসিল্ক’র বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেন। মুনমুন রহমানের নির্দেশনায় পরপরই নাইম ও কংকন কলকাতায় গিয়ে বাটা’র বিজ্ঞাপনে মডেল হন। পরবর্তীতে নাইম নিজেই কয়েকটি গানের মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেন, যাতে নিজে মডেল হন। ছিলেন সোহেল, রতন, তার চাচাতো বোন সাবেকা,ফামিনা মহিদ,কেয়া। এই ভিডিওই চোখে পড়ে পরিচালক এহতেশামের। সরাসরি এহতেশাম নাইমের বাবার কাছে গিয়ে তার ছেলেক ‘চাঁদনী’ সিনেমার হিরো’র প্রস্তাব দেন। নাইমের বাবা রাজি হন, কারণ এর আগে নাইমের বাবাকেই এহতেশাম শাবানার বিপরীতে ‘চকোরী’ সিনেমাতে নায়ক হিসেবে নিতে চেয়েছিলেন। নাইমের বিপরীতে শাবনাজকে নিয়ে নির্মিত হলো ‘চাঁদনী’। মুক্তি পেলো ১৯৯১ সালের ৪ অক্টোবর। টানা প্রায় চার মাস সিনেমাটি দেশের হলে হলে চলেছিলো। বাংলাদেশের সিনেমায় তরুণ নায়ক নায়িকা’র সফল অভিষেক হয় ‘চাঁদনী’র মধ্যদিয়েই। সিনেমাতে নাইম শাবনাজের অভিনয়, সিনেমার গান সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এহতেশামেরই ‘চোখে চোখে’ সিনেমার শুটিং-এ প্রেমে পড়েন নাইম-শাবনাজ। তারপর তারা জুটি হয়ে অনেক সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। নাইম সর্বশেষ আজিজুর রহমানের ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’ সিনেমাতে অভিনয় করেন। ৮ মে নাইম জীবন চলার পথে পঞ্চাশ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছেন। দিনটিকে বিশেষভাবে উদযাপনের পরিকল্পনা ছিলো তার। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে কিছুই করা হচ্ছেনা। নাইম বলেন,‘ এই বিশেষদিনে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি আমার বাবা মা, শ্রদ্ধেয় পরিচালক এহতেশাম, চাঁদনীর প্রযোজক’সহ এই সিনেমা সংশ্লিষ্ট সবাইকে। যতোগুলো সিনেমাতে অভিনয় করেছি প্রত্যেক সিনেমার প্রযোজক, পরিচালক, সহশিল্পী’সহ সিনেমার প্রত্যেককে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি। আমার ভক্ত দর্শকের প্রতি ভালোবাসা। আমার স্ত্রী শাবনাজকে ধন্যবাদ আমার জীবনটাকে সুন্দর করে সাজিয়ে দেবার জন্য। মহান আল্লাহ আমাকে দুই মেয়ে সন্তান উপহার দিয়েছেন, অশেষ কৃতজ্ঞতা আল্লাহর প্রতি। জীবনের বাকীটা দিন সুস্থ, সুন্দরভাবে কাটিয়ে দিতে চাই। করোনায় সবাই নিরাপদে থাকুন, সাবধানে থাকুন।’ নাইম শাবনাজ বিয়ে করেন ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর। নাইমকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শাবনাজ বলেন,‘ সবসময়ই দোয়া করি আল্লাহ যেন নাইমকে সুস্থ রাখেন, আর পাশে থাকার অংগীকারতো আছেই। এই দু:সময়ে আমরা চেষ্টা করছি দেশের মানুষের পাশে থাকবার। আর যেহেতু ঘরের বাইরে বের হবার কোনই সুযোগ নেই তাই নাইমের জন্মদিনটা ঘরের মধ্যেই নিজেদের মতো করেই সময় কাটাবো ইনশাআল্লাহ। সবাই নাইমের জন্য দোয়া করবেন। ’ নাইম শাবনাজ দম্পতির দুই মেয়ে। বড় মেয়ে নামিরা কানাডায় উচ্চশিক্ষা গ্রহন করছেন। অন্যদিকে ছোট মেয়ে মাহাদিয়া ঢাকাতেই পড়ছেন। পড়াশুনার পাশাপাশি মাহাদিয়া গানের সাথেও নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন।
ছবি : গোলাম সাব্বির

Leave a Reply

এটাও পছন্দ করতে পারেন

তবুও জন্মদিনের শুভেচ্ছা

শুভ জন্মদিন শাকিলা পারভীন

সংবাদ পাঠে মুন্নীর দুই দশক, ১২ বার শ্রেষ্ঠত্বর পুরস্কারে ভূষিত

স্ত্রীর জন্মদিনে আমিন খানের সারপ্রাইজ

জন্মদিনেও শুটিং-এ সাজু খাদেম

‘তোর মনপাড়া’য় খ্যাত রাসেলের জন্মদিন আজ

Copy link
Powered by Social Snap