সর্বশেষ আপডেট :অক্টোবর ১৮, ২০১৯
Ovinews24

৮৫’তম জন্মদিনে অনন্যা রুমা’র উদ্যোগে তারকা কথন’-এ মুস্তাফা মনোয়ার

আগস্ট ৩১, ২০১৯

বিনোদন প্রতিবেদক : দেশের কিংবদন্তী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার আগামীকাল ৮৪ বছর পেরিয়ে ৮৫’তে পা রাখছেন। তার জন্মদিনকে স্বাগত জানিয়ে দিনটিকে বিশেষভাবে উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে চ্যানেল আই। নানান রঙ্গে রাঙ্গিয়ে দিতে ‘তারকা কথন’র প্রয়োজক অনন্যা রুমার উদ্যোগে আগামীকালের ‘তারকা কথন’ হবে একেবারেই ব্যতিক্রম কিছু। এমনটাই জানালেন অনন্যা রুমা। কাল দুপুর ১২.৩০ মিনিটে চ্যানেল আইয়ের’ তারকা কথন’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন মুস্তাফা মনোয়ার।মুস্তাফা মনোয়োর তার কর্মজীবন শুরু করেন পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে। এরপর একে একে কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপমহাপরিচালক, শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ টেলিভিশন, ঢাকা’র জেনারেল ম্যানেজার এবং এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি জনবিভাগ উন্নয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান এবং এডুকেশনাল পাপেট ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশিক্ষণ নিয়েছেন জাপান ব্রডকাষ্টিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, এন এইচ কে শিক্ষামূলক টিভি অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও প্রযোজনা কোর্সে; বিবিসি লন্ডন, যুক্তরাজ্য, টেলিভিশন প্রযোজনা কৌশলে এবং এন এইচ কে, জাপান, উর্দ্ধতন অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কোর্সে। বিভিন্ন সময়ে বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ১৯৭২ সালে বিটিভি থেকে প্রচারিত শিশু প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে জনপিপ্র ‘নতুন কুঁড়ি’ অনুষ্ঠানের রূপকার তিনি। এছাড়া বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান নির্মাণের দায়িত্ব পালন করে প্রশংসিত হয়েছেন ।

৯৭৩ সালে মস্কো ফিল্ম ফ্যাস্টিবলে আনোয়ার হোসেন, মুস্তাফা মনোয়ার ও সুভাষ দত্ত ও এসএম পারভেজ

১৯৮০ সালে হংকং-এ অনুষ্ঠিত এশিয়ান সাংস্কৃতিক উৎসবে অনুষ্ঠান পরিচালকরূপে অংশহগ্রণ করেন। ১৯৮৬ সালে সিউলে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন তিনি। তাসখন্দে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পাপেট সম্মেলনে বাংলাদেশ পাপেট প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দান ও শো প্রদর্শন করেন। এছাড়া তিনি আরও বহু দেশ সফর করেন। ২য় ও ৬ষ্ঠ সাফ গেমসের উদ্বোধনী ও সমাপনী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ডিরেক্টর ও ভিজুয়ালাইজার এর দায়িত্ব পালন করেন মুস্তাফা মনোয়ার। ২য় সাফ গেমস-এর মাসকট ‘মিশুক’, ১০ ফুট উঁচু হরিণ শাবক এবং ৬ষ্ঠ সাফ গেমস এর মাসকট ‘অদম্য’ একটি বড় বাঘরূপী জীবন্ত পাপেট নির্মাণ তাঁর একটি বড় সাফল্য। পরবর্তীতে ‘মিশুক’-এর একটি প্রতিরূপ তৈরী করে ঢাকা শহরের প্রধান কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে। ১৯৮৫ সালে সার্ক সন্ধ্যা অনুষ্ঠানের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান নির্মাণের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। নির্মিত অনুষ্ঠানটি দেশে এবং বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। বাংলাদেশের চিত্রশিল্পে জলরঙের চর্চায় তিনি অবদান রেখেছেন। জলরং ছাড়াও তেলরং ও গ্রাফিক্সে শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের দক্ষতার স্বীকৃতি মিলেছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রদর্শনীতে। কলকাতা আর্ট কলেজ থেকে পাস করার পর ঢাকা আর্ট কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি প্রথম পাপেট নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। গ্রামবাংলার পুতুলনাচ ছোটবেলাতেই তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল। আর এখন তো বাংলাদেশের পাপেটচর্চার অন্যতম প্রাণপুরুষ তিনি। বাংলাদেশে পাপেট তৈরি ও কাহিনী সংবলিত পাপেট প্রদর্শনের তিনিই মূল উদ্যোক্তা। টেলিভিশনে তাঁর প্রযোজিত শেক্সপিয়রের ‘ট্রেমিং অব দি শ্রু’র, মুনীর চৌধুরী অনূদিত বাংলা টেলিভিশন নাটক ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ এবং রবীন্দ্রনাথের ‘রক্তকরবী’ ইতিহাস সৃষ্টি করে আছে। এই নাটক দুটি যুক্তরাজ্যের গ্রানাডা টিভির ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি অব টিভি ড্রামা’র জন্য মনোনীত হয়। কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত করা হয় শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে। ১৯৫৭ সালে কলকাতার একাডেমী অফ ফাইন আর্টস আয়োজিত নিখিল ভারত চারু ও কারুকলা প্রদর্শনীতে গ্রাফিক্স শাখায় শ্রেষ্ঠ কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে স্বর্ণপদক লাভ করেন তিনি। ১৯৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চারুকলা প্রদর্শনীতে তেলচিত্র ও জলরঙ শাখার শ্রেষ্ঠ কর্মের জন্য দুটি স্বর্ণপদক পান। চারুলার গৌরবময় অবদান ও কীর্তির স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একুশ পদক-এ ভূষিত হন তিনি। ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে টিভি নাটকের ক্ষেত্রে অবদানের জন্য টেনাশিনাস পদক লাভ করেন। চিত্রশিল্প, নাট্য নির্দেশক এবং পাপেট নির্মাণে অবদানের জন্য শিশু কেন্দ্র থেকে ২০০২ সালে বিশেষ সম্মাননা লাভ করেন। ১৯৯২ সালে চারুশিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ পুরস্কারে ভূষিত হন। সংক্ষিপ্ত জীবনী: ১৯৩৫ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর এক শিল্পী পরিবারে মুস্তাফা মনোয়ারের জন্ম। বাবা কবি গোলাম মোস্তফা, মা জমিলা খাতুন। তাঁর যখন পাঁচ বছর বয়স তখন তাঁর মা মারা যায়। মুস্তাফা মনোয়ার প্রথম ভর্তি হয়েছিলেন কলকাতার শিশু বিদ্যাপীঠে। নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে তিনি কলকাতায় গিয়ে স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তি হন সায়েন্সে। কিন্তু সেখানে তিনি পড়াশুনা না করে কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৯ সালে কলকাতা চাররু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় থেকে ফাইন আর্টসে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হন মুস্তাফা মনোয়ার।

Leave a Reply

এটাও পছন্দ করতে পারেন

‘তোর মনপাড়া’য় খ্যাত রাসেলের জন্মদিন আজ

শুভ জন্মদিন ইউসুফ আহমেদ খান

শুভ জন্মদিন জাহিদ হাসান

কথায় কথায় আর শুভেচ্ছা ভালোবাসায় সিক্ত আবুল হায়াত

নতুন নতুন গান আসছে ইউটিউব চ্যানেলে ‘মেহরাব’-এ

আজ শায়ানের জন্মদিন

Copy link
Powered by Social Snap