সর্বশেষ আপডেট :July 2, 2020
Ovinews24

অ্যাণ্ড্রু কিশোরের ফেরার প্রার্থনায় আলম খান…

June 29, 2020

অভি মঈনুদ্দীন : বাংলাদেশের প্লে-ব্যাক সম্রাট অ্যাণ্ড্রু কিশোর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে কিছুদিন আগে দেশে ফিরেছেন। দেশে ফিরেই তিনি তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহী চলে গেছেন। সেখানেই তিনি নীরবে একান্তে নিজের মতো করে সময় কাটাচ্ছেন। সিনেমার গানে প্লে-ব্যাক সিঙ্গার হিসেবে অ্যাণ্ড্রু কিশোরের যাত্রা শুরু হয় সাতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ও চারবার বাচসাস পুরস্কারপ্রাপ্ত সঙ্গীত পরিচালক আলম খানের হাত ধরে। শিবলী সাদিক পরিচালিত ‘মেইল ট্রেন’ সিনেমাতে প্রথম প্লে-ব্যাক করেন অ্যাণ্ড্রু কিশোর। তবে সিনেমাটি মুক্তি পায়নি। পরবর্তীতে এজে মিন্টু পরিচালিত ‘প্রতিজ্ঞা’ সিনেমায় দেওয়ান নজরুলের লেখা আলম খানেরই সুর সঙ্গীতে ‘একে চোর যায় চলে পিছনে লেগেছে দারোগা’ গানটি দর্শক প্রথম রূপালী পর্দায় নায়ক আলমগীরের লিপে প্রথম উপভোগ করেন। প্রথম গানেই সারা বাংলাদেশে সাড়া ফেলেন অ্যাণ্ড্রু কিশোর। তারপর সিনেমার গানে অ্যাণ্ড্রু কিশোরের প্লে-ব্যাক সম্রাট হয়ে উঠার ইতিহাস। ১৯৮২ সালে মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘বড় ভালোলোক ছিলো’ সিনেমাতে সৈয়দ শামসুল হকের লেখা ‘হায়রে মানুষ রঙ্গিন ফানুস দম ফুরাইলে ঠুস’ গানটি গেয়ে আরো অধিক সাড়া ফেলেন। একই সিনেমায় সঙ্গীত পরিচালনার জন্য আলম খান এবং গান গাওয়ার জন্য শীষ্য অ্যাণ্ড্রু কিশোর প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। অ্যাণ্ড্রু কিশোর’ গুরুতর অসুস্থ। তার ফেরার প্রত্যাশা নিয়ে তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন প্রতিনিয়ত গুরু আলম খান। আলম খান বলেন, ‘ অ্যাণ্ড্রু কিশোরের গান ছাড়া বাংলাদেশের সিনেমার গানের কথা কল্পনাই করা যায়না। চার দশক ধরে সিনেমার গানে অ্যাণ্ড্রু অবদান তাকে প্লে-ব্যাক সম্রাট হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, এটা অনেক বড় প্রাপ্তি। অ্যাণ্ড্রু কিশোরের কন্ঠটি কাওয়ালী, গজল, ফোক, আধুনিক অর্থাৎ যেকোন ধরনের গানের জন্য মানানসই। এমন কন্ঠই যথার্থ সিনেমার গানের জন্য। প্লে-ব্যাক সম্রাট হিসেবে তার জীবন সার্থক। কারণ দেশের আপামর জনসাধারণ তার গানে মুগ্ধ হয়েছেন, এখনো হচ্ছেন। একজন অ্যাণ্ড্রু কিশোর খুউব ভদ্র, নম্র, অনেক বেশি নীতিবানম জীবনে কোনদিন তাকে আমি রাগ করতে দেখিনি। মূলকথা আমাকে কোনদিন রাগ করার সুযোগই দেয়নি। তার গাওয়া সিনেমার গানের মতো করেই বলতে হয়, একজন অ্যাণ্ড্রু কিশোর বড় ভালো লোক। তাকে নিয়ে আমি গর্বিত, তাকে নিয়ে বাংলাদেশ গর্বিত। জীবনে আর একটিবার তার সঙ্গে গল্পে আড্ডায় মেতে উঠতে চাই, আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ করে দেন। ’ আলম খান জানান অ্যাণ্ড্রু কিশোরকে তিনি প্রথম পারিশ্রমিক দিয়েছিলেন পাঁচশত টাকা। রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র অ্যাণ্ড্রু কিশোরের জন্ম রাজশাহী শহরের মিশন হাসপাতালে। ওস্তাদ আব্দুল আজিজ বাচ্চুর কাছে শিখেন সঙ্গীতের নানান দিক। ’ ১৯৭৭’এর দিকে রেডিওতে ট্রান্সমিশন সার্ভিসে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা পদে চাকরি করতেন এ এইচ এম রফিক। তিনি একদিন অ্যাণ্ড্রু’কে ঢাকায় আসার কথা বললেন। ঠিক সে সময় শিল্পকলায় কর্মরত মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম একটা প্ল্যান করলেন। প্ল্যানটা ছিলো মফস্বলে যারা প্রমিজিং মডার্ণ সিঙ্গার তাদের স্টার মিউজিক ডিরেক্টর দিয়ে যদি গান করানো যায়, তাহলে হয়তো ভাল কিছু গানের জন্ম হতে পারে। ভালো কিছু শিল্পীরও জন্ম হতে পারে। এই প্ল্যান অনুযায়ী সংস্কৃতি অঙ্গনে জন্ম নিলেন সুবীর নন্দী, ফরিদা পারভীন, নারগিস পারভীন, প্রবাল চৌধুরী, অ্যাণ্ড্রু কিশোরও। আলম খানের সুরে অ্যাণ্ড্রু কিশোর সর্বশেষ সৈয়দ শামসুল হকের লেখা ‘ফুলের গন্ধের মতো থেকে যাবো তোমার রুমালে’ গানটিতে কন্ঠ দিয়েছিলেন।
ছবি : মোহসীন আহমেদ কাওছার

Leave a Reply

এটাও পছন্দ করতে পারেন

ঝিলিকের প্রশংসায় রুনা লায়লা, ঝিলিকের কাছে এটি অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির সমান…

নতুন নতুন গানে গ্রহনযোগ্যতা বাড়বে ঐশী’র…

রুনা লায়লা’র প্রশংসাই জীবনের বড় প্রাপ্তি তিন্নি’র…

আর কোন কথা নয়’র জন্য ‌দুই বাংলায় সাড়া পাচ্ছেন রূপঙ্কর-সুমনা

নিজের পথে ছন্দে ফিরেছেন দিঠি আনোয়ার…

অভিজাত পরিবারের এক জাদুকর গীটারিস্ট…

Copy link
Powered by Social Snap