সর্বশেষ আপডেট :July 2, 2020
Ovinews24

ছয় তরুনী’র চোখে তাদের হিরো বাবা’দের গল্প

June 20, 2020

কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো নির্মাণ কাজ শুরু হবে শ্যাম বানেগাল পরিচালিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বায়োপিক’র কাজ। এতে শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। অন্যদিকে ‘তোর মন পাড়ায়’ গানে মডেল হিসেবে অভিনয় করে সারা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন মিষ্টি মেয়ে শাকিলা পারভীন। গানটি এরইমধ্যে প্রায় আট কোটি ভিউয়ার্স উপভোগ করেছেন। অন্যদিকে চ্যানেল আই সেরাকন্ঠ এবং ক্ষুদে গান রাজ থেকে বেরিয়ে আসা সঙ্গীতশিল্পী ঐশী, স্মরণ, অনন্যা ও তিন্নি নিজেদের গায়কী দিয়ে সঙ্গীতাঙ্গনে নিজেদের আলাদা অবস্থান সৃষ্টি করার চেষ্টায় দৃঢ় প্রত্যয়ী। হিমি, শাকিলা, ঐশী, স্মরণ, অনন্যা ও তিন্নি তাদের বাবাদের নিয়ে তাদের ভালোলাগা ভালোবাসার বহি:প্রকাশ করেছেন। প্রত্যেকের কাছেই তাদের বাবা একজন হিরো। সেই হিরোদের গল্পই শোনাযাক তাদের বয়ানে। লিখেছেন অভি মঈনুদ্দীন
আব্বু চলে আসায় আমাদের পরিবার এখন পরিপূর্ণ : হিমি
আমার বাবা মো: আব্দুল হালিম। বিগত আট বছর সাউথ কোরিয়াতে ছিলেন। আমার আব্বুর সঙ্গেই বন্ধনটা দৃঢ়, কারণ আমি ছোট মেয়ে। আম্মু একটু কঠিন, কিন্তু আমার জন্য আমার বাবা সহজ সরল আদুরে। আমি কোন ভুল করলে আম্মু আব্বুর কাছে নালিম করলেও আব্বু শাসন না করে আদর করতেন। চলতি বছরের প্রথমদিকে আব্বু আট বছর পর দেশে আসেন। এতো বছর পর সামনাসামনি দেখে বাবাকে খুউব অন্যরকম লেগেছিলো। এই অনুভুতিটা ভাষায় প্রকাশের নয়।

বাবা আমার বর্তমান কাজকে ভীষণ অনুপ্রেরণা দেন। আব্বু আম্মু চেয়েছেন আমি, আমরা যেন ভালো মানুষ হতে পারি। তাদের পক্ষ থেকে কখনোই কোন ঘাটতি ছিলোনা, এখনো নেই। আমার বাবা সবসময় চান আমি যেন এমন পর্যায়ে যেতে পারি যাতে তার মুখ উজ্জ্বল হয়। আব্বু স্যামসাং কোম্পানীতে চাকুরী করতেন। আব্বু এখন চলে আসায় আমাদের পরিবার পূর্ণ হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে আনন্দের কথা হলো যে করোনা’র ক্রান্তিলগ্ন শুরু হবার আগেই আব্বু চলে এসেছেন। বহুবছর পর বাবা দিবসে আব্বু’কে পাশে পাচ্ছি, এটা অনেক অনেক ভালোলাগার, আনন্দের।
ছবি : হিমির সৌজন্যে
সবকিছুর উর্ধ্বে আব্বু পড়াশুনাকে গুরুত্ব দিতেন : শাকিলা পারভীন
আমরা এক ভাই এক বোন। আমার আব্বুর নাম মো: বাশার উদ্দিন। ছোটবেলা থেকেই আমার আব্বু আমাদের দুই ভাই বোনকে খুউব ভালোবাসেন, আদর করেন। স্কুলে যাবার আগে থেকেই বাবার কাছেই প্রথম অক্ষর শেখা। আর তিনি যখন বাহির থেকে ঘরে ফিরতেন তখন কখনোই খালি হাতে ফিরতেন না, হাতে হয় চিপস, না হয় চকলেট থাকতোই। তা দেখেই আমরা খুশি হয়ে যেতাম। খুউব ছোটবেলা থেকেই আব্বু একটি কথা বলতেন, যে যাই করোনা কেন, পড়াশুনাটা ঠিকমতো চালিয়ে যাবে।

যে কারণে আমি যা কিছুই করিনা কেন পড়াশুনায় শতভাগ মনোযোগ দিয়েছি, পরীক্ষায় ভালো ফলাফল বরার চেষ্টা করেছি। এটা সত্যি যে প্রত্যেক পরিবারেই বাবার ভূমিকা অপরিসীম। সংসারের জন্য, সন্তানের জন্য বাবা অনেক পরিশ্রম করেন। বাবারা নিজের দিকে না তাকিয়ে সংসার, সন্তানের কথা ভেবে দিনরাত পরিশ্রম করেন। আমার বাবাও ঠিক তাই। বাবা আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করেন। কিন্তু আমরা যখন কোন কাজে কৃতকার্য হই তখন বাবার মুখের হাসিই আমাদের অনেক আনন্দ দেয়। আমার বাবা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবাদের একজন। তাই বাবা দিবসে দোয়া করি আল্লাহ যেন আমার বাবাকে সুস্থ রাখেন, ভালো রাখেন। ভালো থাকুক পৃথিবীর সব বাবারা।

আব্বু যেন আমাকে নিয়ে গর্ব করতে পারেন : ঐশী
আমার বাবার নাম মো: রফিকুল ইসলাম। তিনি সুনামগঞ্জে একটি থানায় অ্যাকাউন্টস অফিসে কর্মরত। আমার বাবার প্রবল ইচ্ছে ছিলো আমি যেন বড় হয়ে ডাক্তার হই। কারণ আমার দাদা আব্দুর রশীদ একজন ডাক্তার ছিলেন। কিন্তু আমি সাইন্স নিয়ে পড়াশুনা করার পরও আমার ঝোক ছিলো গানের প্রতিই। যে কারণে মেডিক্যালে পড়াশুনার প্রতি আমার আগ্রহই ছিলোনা। যে কারণে আমি আমার নিজের ইচ্ছেতেই গানের প্রতি মনোযোগী হয়ে উঠি। এতে বাবার প্রথম দিকে একটু মন খারাপ হয়েছিলো।

কিন্তু পড়তে পারিনি। তারপরও এখন আমি সঙ্গীত বিষয়ে অনার্স পড়ছি, আব্বুর এখন কিছুটা হলেও ভালোলাগছে। আমার বাবাও একজন গান অনুরাগী মানুষ। ভীষণ গান পছন্দ করেন। তাই আমার গান গাওয়াটা এখন তার ভালোলাগে। আমার গানের বিষয়ে আমার আম্মুকেই বেশি শ্রম দিতে হয়েছে। কিন্তু আর্থিকভাবে যে সহযোগিতাটা দরকার ছিলো, তা আব্বু সবসময়ই করেছেন। সত্যি বলতে কী আমার আব্বুর ইচ্ছেমতো ডাক্তার হতে পারিনি। কিন্তু তারপরও আমি সঙ্গীতে যেভাবে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, আমার যে লক্ষ্য সেই লক্ষ্যে যদি পৌঁছাতে পারি, তাহলে বাবা খুশী হবেন। আমি যেহেতু বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পারিনি, কিন্তু আমি আমার স্বপ্ন যদি ভালোভাবে পূরণ করতে পারি এবং আমি আমার স্বপ্নের চূড়ান্তে পৌঁছাতে পারি তবে আমার বিশ^াস আমার বাবা নিশ্চয়ই খুশী হবেন। আমার এখন একটাই স্বপ্ন আমার আব্বু যেন আমাকে নিয়ে গর্ব করতে পারেন, সেভাবেই নিজেকে গড়ে তুলছি। ইনশাআল্লাহ আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবো। আব্বু আম্মু দু’জনই সবসময় ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এই দোয়া করি।
আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক আমার বাবা : স্মরণ
আমার বাবার নাম মোঃ তারিকুল আলম লিখন। এই জীবনে, এই মানুষটিকে এই সুন্দর, শ্বাশত পবিত্র নামে ডাকার সুবর্ণ সুযোগ ও সৌভাগ্য স্রষ্টা আমাকে দিয়েছেন, শেষ দিন পর্যন্ত এই সৌভাগ্য আমার হবে। তাই আমি স্রষ্টার কাছে কৃতজ্ঞ। তাঁকে নিয়ে আমার নিজের একান্ত আপন একটি সুন্দর জগত রয়েছে, যে জগতের রাজ্যে তাঁকে রাজ সিংহাসনে রাজার বেশে আমি সবসময় দেখি। সে কল্পনার জগতে তিনি আমার কাছে একাধারে পৃথিবীর একজন সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক, পরম আপন বন্ধু, শক্তিশালী বিচারক, নিবেদিত প্রাণ চিকিৎসক।

এসব কথা কাল্পনিক মনে হলেও এ কথা গুলো চিরন্তন সত্য। তিনি আমাকে সবসময় সরলতা, শিষ্টাচার, নৈতিকতা, সদাচারণ, মানবিকতা, মূল্যবোধ, ন্যায়পরায়ণতা, সময়ানুবর্তিতা শিখিয়ে আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। জীবনের সবচেয়ে কঠিন, কঠোর, সংগ্রামের মুহূর্তে ছায়ার মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি, সমস্ত প্রয়োজনে আমি তাঁকে পরম বন্ধুর মতো পাশে পেয়েছি। সততার ব্যাপারে তিনি তিল পরিমাণ ছাড় দেননি কখনো। আইন, নিয়ম, কানুন তাঁর কাছে সবার আগে। আমার বিবেকের আদালতে তিনিই সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ বিচারক ও সর্বোত্তম বিবেচক। আমি কখনো অসুস্থ হলে রাতবিরাতে আমার পাশে জেগে থাকতে দেখেছি নির্ঘুম রাত পার করতে দেখেছি। পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানী চিকিৎসকের চেয়েও অনেক বড় উদারতার পরিচয় দিয়েছেন। বাবা হলো জীবনে একটি শক্ত খুঁটির নাম, যার উপর ভর করে প্রতিটি সন্তান মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে। ভয় ভীতি, বিপদ, বন্ধুর ও কঠিন পথ সবকিছুর ঊর্ধ্বে একজন বাবার ভালোবাসা। বাবার কাছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সবাই আমরা ঋণী। পৃথিবীতে কোনো দেবদূত, দেবতা দেখিনি, সুপার ম্যান দেখিনি, কিন্তু এই এক জীবনে ‘বাবা’ দেখেছি। স্রষ্টার তৈরি অপূর্ব, অকৃত্রিম ভালোবাসার মানুষ দেখেছি। তিনি আমার পরিচয়, আমার অহঙ্কার, আমি যার একমাত্র রাজকন্যা। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।
আমার গানের জন্য বাবা চাকুরী ছেড়েছেন : অনন্যা
বাবার অনুপ্রেরণাতে আমি একজন সৎ ও সুনাগরিক হওয়ার চেষ্টা করেছি বাবা যেটাকে সবসময় প্রাধান্য দেন। স্বশিক্ষিত হয়ে উপযুক্ত সাধনার মাধ্যমে নিজেকে সাফল্যের উচ্চ শিখরে যেন পৌঁছাতে পারি বাবা সবসময় সেটা কামনা করেন। বাবাকে নিয়ে সব মেয়েরই অনেক স্বপ্ন থাকে। আমারও আছে যা ভবিষ্যতে বাস্তবায়ন হবে। বাবার একটা অপূর্ণ ইচ্ছা ছিলো সংগীত সাধনা। বাবার জীবনে অনেক প্রতিকুলতার মাঝে সেটা সম্ভব হয়ে উঠেনি। এজন্য তিনি তার মাধ্যমে আমাকে গড়ে তুলতে চেয়েছেন। বাবা আমাকে শৈশব থেকে গানের প্রতি অনুপ্রাণিত করেছেন, সংগীত ভালোবাসতে হয় কীভাবে সেটা বাবাকে দেখে শিখেছি।

বড় বড় সংগীত গুরুদের কাছ থেকে তালিমের সুযোগ করে দিয়েছেন। শত বাধাবিপত্তির মাঝেও হাল ছাড়েননি। আমার এখনো মনে আছে, আমাকে প্রকৃত শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বাবা তাঁর চাকরি ছেড়ে দিয়ে ঢাকায় আমাকে নিয়ে চলে এসেছেন। যাতে আমি একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হতে পারি। যার ফলশ্রুতিতে আমি এখনো গান গেয়ে যাচ্ছি। বাবা আমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেন। তার ইচ্ছা আমি যেন একজন শুদ্ধ সুরের সংগীতশিল্পী হয়ে বাংলাদেশের সংগীত জগতে স্থান করে নিতে পারি। আমার অর্জিত টাকা দিয়ে সমাজের সেবা করতে পারি। আমার বিশ্বাস বাবার এই স্বপ্ন নি:শ্চয়ই পূরণ হবে। বাবাকে অনেক অনেক শ্রদ্ধা ভালোবাসা।

বাবার হাতে চূড়ান্ত সাফল্যের পদকটা তুলে দিতে চাই : তিন্নি
আমার কাছে বাবা শুধু একজন মানুষ নন। বাবার সঙ্গে সন্তান শুধু একটি সম্পর্কের নাম নয়, বাবার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনুভূতির এক অদ্ভূত মায়ার প্রকাশ। বাবা নামটি উচ্চারণ করার সাথে সাথেই যেকোন বয়সের মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতার এক অন্যরকম অনুভব জাগ্রত হয়। একজন বাবা তার সন্তানের জন্য কতোভাবে যে অবদান রেখে যান তার চুলচেরা হিসেব কেউ কখনো করতে পারবেনা। ঠিক তেমনটাই আমার ক্ষেত্রে। আমার ক্ষেত্রে যেন একটু বেশিই বটে। কেননা যে পেশায়ই বলা চলে আছি আমি তাতে আমার চেয়ে আমার বাবাই বেশি পরিশ্রম করেন। আমার সঙ্গীত জীবনে আমার বাবার অবদানই সবচেয়ে বেশি।

বাবা আমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছেন, আমাকে ঘিরে তার অনেক আশা। এমন কী তার নিজের অপূর্ণ স্বপ্নগুলো আমার মধ্যেই দেখেছেন তিনি। বাবার ইচ্ছেছিলো সমৃদ্ধভাবে মেয়েকে সঙ্গীত নিয়ে এগিয়ে যেতে দেখার। আমি এখনো চেষ্টা করছি। বাবার সেই স্বপ্নের পথেই আমি হেঁটে চলেছি। ছোট বেলায় বাবার আঙ্গুল ধরেই হারমোনিয়ামের রিড ধরতে শিখেছি। ঠিক তেমন করেই সেই আঙ্গুল ধরে সেরা কন্ঠে যাওয়া, আগামীর পথে এগিয়ে চলা। একজন শুদ্ধ সুরের সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে আমাকে দেখার বাবার যে স্বপ্ন তাই পূরণ করার চেষ্টা করছি আমি। বাবার অনুপ্রেরণায় নানান ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আমি কখনোই হারিনি। বিজয়ের মালা ছিনিয়ে এনেছি আমি ঠিকই। সব বাবাই নিজের সন্তানকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে। আমিও আমার বাবাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি। আমার জীবনের চূড়ান্ত সাফল্যের পদকটা বাবার হাতে তুলে দিতে চাই। আমার বাবা যেন সবসময় সুস্থ থাকেন ভালো থাকেন, এই দোয়া চাই সবার কাছে।

Leave a Reply

এটাও পছন্দ করতে পারেন

নীরবে সব সয়ে যাওয়া একজন মানুষ আমার মা : ন্যান্সী

প্রশংসা ভাসছে লেনিনের ‘আমিতো ভাবতেই পারিনি’

চলচ্চিত্র নির্মাণই চন্দনের স্বপ্ন

উপস্থাপনাতেই নান্দনিক তিনি

যাত্রা শুরু হচ্ছে রবি’র ‘উত্তরা ফিল্ম অ্যাণ্ড টেলিভিশন একাডেমি’র

‘অন্যরকম ভালোবাসা’ দিয়ে শায়লা সাবির ফেরা

Copy link
Powered by Social Snap