সর্বশেষ আপডেট :July 2, 2020
Ovinews24

তরুন, নিথর ও রুনির বয়ানে বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী

June 20, 2020

তরুন মুন্সী, নিথর মাহবুব ও রুমান রুনি, তিন মেধাবী সংস্কৃতিমনা মানুষ। তরুন মুন্সী পেশায় একজন সঙ্গীতশিল্পী, নিথর মাহবুব মুকাভিনেতা হিসেবে বাংলাদেশেই শুধু নয় দেশের বাইরেও বেশ সুনাম কুঁড়িয়েছেন। আবার একজন নাট্যনির্মাতা হিসেবে রুমান রুনি বেশ প্রশংসিত। তিন তরুনের বয়ানে বাবা দিবসে তাদের বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী তুলে ধরা হলো। বাবা দিবসের বিশেষ এই আয়োজন রচনা করেছেন অভি মঈনুদ্দীন
বাবা নেই কিন্তু বাবার স্বপ্নটা পূরণ করতে চাই : নিথর মাহবুব
আমার বাবা কদরুজ্জামান মোল্লা গত বছর ১৭ সেপ্টেম্বর মারা গেছেন। বাবা চলে যাবার পর থেকে প্রতিটি দিনই নিজের ভিতর একটা হাহাকার অনুভব করি। মনে হলেই চোখ ভিজে যায়। যখন বাবা ছিলেন প্রচ- একটা শক্তি অনুভব করতাম। বাবার মৃত্যুর পর মা-ও অনেকটা অসহায় দুর্বল হয়ে গেছেন। আমার বাবা ভালো ওয়াজ করতে পারতেন। বাবা সুন্দর ও জোরালো কন্ঠে গজল, নজরুল সঙ্গীতও ভালো লাগত। আমি খুব সৌভাগ্যবান যে, আমি আমার বাবা এবং মায়ের সব ভালো দিকগুলো পেয়েছি। আমাকে নিয়ে আমার মা-বাবা উভয়ই সবসময় চিন্তা করতেন। কারণ তাদের দৃষ্টিতে আমি উল্টা-পাল্টা ছিলাম। মানে নাটক, গান, আবৃত্তি এসবের পিছনে সময় নষ্ট করতাম।

আমি ২০০৩ সালের দিকে যখন ঢাকায় এসে কষ্ট করছিলাম, তখন বাবা কদিন পরপরই চিঠি লিখে পাঠাতেন। পাগলামী না করে প্রতিটি টিঠিতে ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করতে বলতেন, নাটক, গান এসব রেখে গ্রামের গিয়ে আমাদের হাই স্কুলে শিক্ষকতা করতে বলতেন। তবে বাবা পরে নিশ্চিশ হতে পেরেছিলেন যে আমার সময়গুলো বিফলে যায়নি। ২০০৯ সালে যখন আমার অভিনীত বাংলালিংক এর একটি বিজ্ঞাপন প্রচারে আসলো, বাবা এলাকার চায়ের দোকানে যখন আড্ডা দিতেন, তখন বিজ্ঞাপনটি আসলেই আঙ্গুল তাক করে সবাইকে বলতেন এটা আমার ছেলে, যদিও গ্রামের সবাই আমাকে চিনে তবুও তিনি আবেগে সেটা বলতেন। গ্রামে গেলে সবাই আমাকে তা জানাতেন। পত্রিকায় যখন নিউজ আসত বাজারের লোকেরা ডেকে বাবাকে বলতো- মোল্লাসাব আপনার ছেলের ছবি ছাপা হয়েছে পত্রিকায়। বাবা পত্রিকা সংগ্রহ করে বাসায় নিয়ে যেতেন মাকে দেখানোর জন্য। অথচ তিনি একসময় আমার নাটক করা, গান করা এসব পছন্দ করতেন না। সন্তানের সাফল্য বাবা-মাকে কতটা খুশি করে তা আমি আমার বাবাকে দিয়ে বুঝেছি। বাবার ধারণা ছিল আমি অনেক টাকাও রোজগার করছি। আমাকে বাড়িতে একটা পাঁচ তালা বিল্ডিং করতে বলতেন। বাবা জানতেন না এই দেশে শিল্পীদের রোজগার এতো বেশি না। তবে বাবা বেঁচে খাকতেই টিনের চাল দিয়ে এক তালা একটা দালান করতে পেরেছি। যখন বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু করি বাবা খুব খুশি ছিলেন। তখনও বলতেন পরে আবার একটা পাঁচ তালা বিল্ডিং উঠাবি। আমরা চার ভাইবোন তাই হয়তো বাবার স্বপ্ন ছিল পাঁচ তালা একটা বিল্ডিং। যদি আল্লাহ কখনো সামর্থ্য দেন বাবার এই ইচ্ছেটা পুরণ করতে চাই। আমার বাবাকে যেন আল্লাহ বেহেস্ত নসীব করেন, বাবা দিবসে সবার কাছে এই দোয়া চাই।

বাবার সহজ সরল আর সত্যবাদী বিশেষণ’ই আমি ধারণ করেছি : তরুন মুন্সী
আমার বাবা পেশাগতভাবে সরকারী এবং বেসরকারী দুই ধরনের প্রতিষ্ঠানেই কর্মরত ছিলেন। চাকুরীর সুবাদে বাবা দেশের বাইরেও বেশকিছুদিন ছিলেন। যতোদিন আমার বাবা চাকুরী করেছেন বেশ সততার সাথে সুনামের সাথেই চাকুরী করেছেন। আমি যেহেতু বাবার বড় সন্তান তাই আমার সঙ্গে বাবার সম্পর্কটা বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। সংসারের অনেককিছুই এখন বাবা আমার সঙ্গে শেয়ার করেন, অনেক কিছুর ক্ষেত্রে বাবা আমার উপর ভীষণ আস্থা রেখেই নিজে নির্ভার থাকেন। সন্তান হিসেবে আরো দীর্ঘ সময় বাবা মায়ের সেবা করার স্বপ্ন দেখি। একবার স্কুলে আমার বাবাকে আমার একজন শিক্ষক এমন কিছু তথ্য বাবার কাছে তুলে ধরেছিলেন যা আমার বাবার জন্য ছিলো বিব্রতকর। কিন্তু সেই বিষয়টিকে আমি পজিটিভলিই নিয়েছিলাম।

কারণ আমি মনেকরি একজন শিক্ষকও বাবারই মতো। কারণ সেই ঘটনার কারণেই পরবর্তীতে আমার পরীক্ষার ফলাফল অনেক ভালো হয়। সন্তান হিসেবে বাবাকে বলতে চাই, প্রতিদিনই বাবার শক্তি এবং ছায়াটাকে উপভোগ করতে চাই। আমি আসলে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। লেখাপড়া শেষে চাকুরী করলেও সঙ্গীতকে পেশা হিসেবে নেবার কারণে এক সময় খুউব চিন্তিত ছিলেন আমার বাবা মা। তবে আমি যা কিছুই করিনা কেন আমার বাবা এবং মায়ের নীরব সমর্থন ছিলো এবং তাদের বিশ্বাস ছিলো আমি ভালো করতে পারবো। আমার বাবা একজন সহজ সরল মানুষ, একজন সত্যবাদী মানুষ। বাবার সহজ সরল এবং সত্যবাদীতার বিষয়টিই আমার নিজের মধ্যে ধারণ করার চেষ্টা করেছি। আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সবসময়ই আমার বাবার সমর্থন ছিলো। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি আমার বাবা যেন সুস্থ থাকেন ভালো থাকেন।

বাবাকে দিয়ে একটি গান গাওয়ানোর স্বপ্ন আমার : রুমান রুনি
বাবাকে নিয়ে এভাবে কখনো কোনদিন বলতে হবে এটা আসলে আমার ভাবনাতেই কখনো ছিলোনা। মানুষের জীবনের কিছু মুহুর্ত আসে যা তার কল্পনারও বাইরে। আমি আমার বাবাকে নিয়ে বাবা দিবসে পাঠকের উদ্দেশ্যে কিছু বলবো, এটা যেন আমার জীবনের অন্যরকম এক প্রাপ্তি। আমার বাবা মো : সিরাজুল ইসলাম আকন্দ। বাংলাদেশ পুলিশে চাকুরী করতেন। প্রত্যেকটা বাবাদের তার সন্তানদের কে নিয়ে আলাদা স্বপ্ন থাকে। যখন সেই স্বপ্ন পূরণ না হয় তাহলে বাবারা কিছুটা হলেও কষ্ট পান। কিন্তু কখনো কোন বাবা তা প্রকাশ করেন না। আমার বাবাও কোনদিন তা কোনভাবেই প্রকাশ করেননি। তবে আমি বুঝতে পারি। কিছুদিন আগে ‘বাবা’ নামের একটা নাটক নির্মাণ করেছিলাম। বাবা দেখে মুগ্ধ হয়েছিল। তখন বাবা বলেছিল তুই তোর নির্মাণেই নিজের মেধাটাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা কর। আর কিছুই করিস না। চেষ্টা করছি বাবার কথা রাখতে। কিন্তু বাবা অনেক পরিশ্রমী আর আমি অলস প্রকৃতির। বাবার আদর শাসন দুটোই সমানতালে পেয়েছি। বাবা আদর যেমন করতো ঠিক তেমনিভাবে শাসনটাও। কথায় বলে না শাসন করা তারই সাজে আদর করেন যিনি। আমার বাবা খুব সুন্দর গান করেন।

যদি কোনদিন বাবার একটা মৌলিক গান আমি করাইতে পারি আমি নিজেকে অনেক বেশি সৌভাগ্যবান মনে করবো। আমার বাবা খুবই সহজসরল একজন মানুষ । আজ পর্যন্ত বাবার কাছে চেয়ে কোন জিনিস পাই নাই এমন হয় নাই। আমার বাবা এককথায় বলতে গেলে অসাধারণ একজন মানুষ,বাবাকে নিয়ে বলে শেষ করা যাবেনা। পৃথিবীতে যেমন একটিও খারাপ বাবা নেই ঠিক তেমনি ভাবে আমি বলতে পারি, আমার বাবার মতো অধিক সরলতায় আক্রান্ত মানুষ খুব একটা নেই বললেই চলে। প্রতিটি সন্তানের জন্যই বাবারা শতভাগ আশাবাদী, অপ্রকাশিত সুপ্ত এই ইচ্ছেগুলো প্রতিনিয়ত বাবাদের বুকে অংকুরিত হতে থাকে। বাবা দিবসে সন্তান হিসেবে আমি এবং আমাদের সকল সন্তানদের উচিৎ বাবাদের মনে অংকুরিত হওয়া ইচ্ছে গুলোকে শ্রদ্ধা, সম্মান আর ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে তোলা। ভালোবাসি বাবা তোমাকে।

Leave a Reply

এটাও পছন্দ করতে পারেন

একজন সাচ্চু অনেকের পথ প্রদর্শক

প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান চঞ্চল মাহমুদ ও তার স্ত্রী

শুভ জন্মদিন সুর স্রষ্টা ফরিদ আহমেদ

লাইফটাইম অ্যাচিভম্যান্ট অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত গাজী মাজহারুল আনোয়ার

Copy link
Powered by Social Snap